ব্লুমবার্গএনইএফের বার্ষিক এনার্জি ট্রানজিশন ইনভেস্টমেন্ট ট্রেন্ডস প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরে বিনিয়োগ ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ এবং আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এই ফলাফল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল সমর্থন কমানো ও বহুপক্ষীয় জলবায়ু কাঠামো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরও এই বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির সরবরাহ বিনিয়োগের তুলনায় পরিষ্কার শক্তি বিনিয়োগ টানা দ্বিতীয় বছর এগিয়ে রইল, এবার ব্যবধান ২০২৪ সালের ৮৫ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১০২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ বিভাগ ছিল বৈদ্যুতিক পরিবহন, যেখানে ৮৯৩ বিলিয়ন ডলার ঢেলেছে বিনিয়োগকারীরা। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি প্রায় ২ কোটি ৭ লাখে পৌঁছেছে, অর্থাৎ বিক্রি হওয়া প্রতি চারটি নতুন গাড়ির একটি ছিল বৈদ্যুতিক। গ্রিড বিনিয়োগ ছিল ৪৮৩ বিলিয়ন ডলার, যা বাড়ছে তবে নতুন নবায়নযোগ্য সক্ষমতা যোগ করার প্রয়োজনের তুলনায় এখনো পিছিয়ে।

চীন এগিয়ে কিন্তু নতুন চ্যালেঞ্জে; আমেরিকা পিছাচ্ছে, ইউরোপ অফশোর বায়ুতে ঝাঁপ দিয়েছে
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল ২০২৫ সালে বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তর বিনিয়োগের ৪৭ শতাংশ ধারণ করেছে, এবং চীন প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে বৃহত্তম বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মতো চীনে নবায়নযোগ্য শক্তির বিনিয়োগ প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে, কারণ নতুন বাজার নিয়মকানুন ভর্তুকিমূল্যের গ্যারান্টি তুলে দিয়েছে। ভারতে বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ বেড়ে ৬৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে, যা সৌরশক্তি, গ্রিড উন্নয়ন ও বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের চালিকাশক্তি থেকে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিনিয়োগ ১৮ শতাংশ বেড়ে ৪৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, মূলত উত্তর সাগরের অফশোর বায়ুশক্তিতে পুঁজির বড় অংশ সরিয়ে আনার মাধ্যমে, যা মার্কিন বাজারের অনিশ্চয়তার বিপরীতে ইউরোপীয় কৌশলগত পছন্দের প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ মাত্র ৩.৫ শতাংশ বেড়েছে এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পাস হওয়া আইন সৌর ও বায়ু প্রকল্পের কর প্রণোদনা ২০২৫ সালের শেষেই শেষ করে দেওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রকল্পে ধীরগতির আশঙ্কা রয়েছে। সার্বিকভাবে, হরমুজ সংকট এশিয়ায় অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার শক্তির কৌশলগত প্রয়োজনীয়তাকে নতুন জরুরিতা দিয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















