০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

ঈদের আগে শ্রমিক বঞ্চনা: বোনাস ও বেতন না পেয়ে অর্ধেক কারখানায় অস্থিরতা

ঈদ সামনে রেখে সরকারি নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও দেশের প্রায় অর্ধেক শিল্পকারখানায় এখনও শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়নি। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারির বেতনও বকেয়া রয়েছে এক-চতুর্থাংশ কারখানায়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ, আর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিচ্ছে উত্তেজনা।

সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও বকেয়া পরিশোধ হয়নি

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আগে থেকেই নির্দেশ দিয়েছিল, মার্চের ৯ তারিখের মধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতন এবং ১২ মার্চের মধ্যে ঈদ বোনাস পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু শিল্প পুলিশের তথ্য বলছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারখানা এই নির্দেশ মানেনি। দেশের ১০ হাজার ১০০ কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৫৪৪টিতে এখনও ফেব্রুয়ারির বেতন দেওয়া হয়নি, যা মোটের প্রায় ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে ৫ হাজার ৭টি কারখানা, অর্থাৎ ৪৫ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান এখনও ঈদ বোনাস দেয়নি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি, পদ ৬২, আবেদন করুন দ্রুতই | The Daily Campus

সহায়তা সত্ত্বেও অচলাবস্থা

সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। রপ্তানিমুখী শিল্পকে সহায়তা দিতে সহজ শর্তে ঋণ এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছিল। তবুও অনেক কারখানায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

রাস্তায় নেমে শ্রমিকদের প্রতিবাদ

বকেয়া পাওনা আদায়ে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে দেখা যাচ্ছে, যা ঈদের আগে প্রায় নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, কিছু মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে বেতন ও বোনাস দিতে দেরি করছেন। তাদের আশঙ্কা, আগেই সব টাকা পরিশোধ করলে শ্রমিকরা মার্চ মাসের অগ্রিম বেতনও দাবি করতে পারেন।

গাজীপুরে খুলে দেওয়া হয়েছে পোশাক কারখানা | কালবেলা

গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে উদ্বেগ

গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানার মালিকের খোঁজ না পাওয়ায় শতাধিক শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে একটি কারখানায় সংকট তৈরি হলেও মালিকদের সংগঠনের সহায়তায় তা সাময়িকভাবে সমাধান করা হয়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে আশার আলো

শিল্প খাতের সংগঠনগুলোর দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে। শিল্পাঞ্চলের ব্যাংকগুলো খোলা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কারখানাগুলো দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করতে পারে। অনেক কারখানাই ইতোমধ্যে মার্চ মাসের অগ্রিম বেতন দিয়েছে এবং ধাপে ধাপে ঈদের ছুটি শুরু করছে।

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা | জাতীয় | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কর্তৃপক্ষ

শিল্প মালিকদের সংগঠনগুলো জানিয়েছে, কোনো কারখানা শেষ মুহূর্তে সমস্যায় পড়লে সমাধানের জন্য তারা এগিয়ে আসবে। এতে করে ঈদের আগে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

ঈদের আগে শ্রমিক বঞ্চনা: বোনাস ও বেতন না পেয়ে অর্ধেক কারখানায় অস্থিরতা

০১:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ঈদ সামনে রেখে সরকারি নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও দেশের প্রায় অর্ধেক শিল্পকারখানায় এখনও শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়নি। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারির বেতনও বকেয়া রয়েছে এক-চতুর্থাংশ কারখানায়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ, আর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিচ্ছে উত্তেজনা।

সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও বকেয়া পরিশোধ হয়নি

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আগে থেকেই নির্দেশ দিয়েছিল, মার্চের ৯ তারিখের মধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতন এবং ১২ মার্চের মধ্যে ঈদ বোনাস পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু শিল্প পুলিশের তথ্য বলছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারখানা এই নির্দেশ মানেনি। দেশের ১০ হাজার ১০০ কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৫৪৪টিতে এখনও ফেব্রুয়ারির বেতন দেওয়া হয়নি, যা মোটের প্রায় ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে ৫ হাজার ৭টি কারখানা, অর্থাৎ ৪৫ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান এখনও ঈদ বোনাস দেয়নি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি, পদ ৬২, আবেদন করুন দ্রুতই | The Daily Campus

সহায়তা সত্ত্বেও অচলাবস্থা

সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। রপ্তানিমুখী শিল্পকে সহায়তা দিতে সহজ শর্তে ঋণ এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছিল। তবুও অনেক কারখানায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

রাস্তায় নেমে শ্রমিকদের প্রতিবাদ

বকেয়া পাওনা আদায়ে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে দেখা যাচ্ছে, যা ঈদের আগে প্রায় নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, কিছু মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে বেতন ও বোনাস দিতে দেরি করছেন। তাদের আশঙ্কা, আগেই সব টাকা পরিশোধ করলে শ্রমিকরা মার্চ মাসের অগ্রিম বেতনও দাবি করতে পারেন।

গাজীপুরে খুলে দেওয়া হয়েছে পোশাক কারখানা | কালবেলা

গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে উদ্বেগ

গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানার মালিকের খোঁজ না পাওয়ায় শতাধিক শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে একটি কারখানায় সংকট তৈরি হলেও মালিকদের সংগঠনের সহায়তায় তা সাময়িকভাবে সমাধান করা হয়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে আশার আলো

শিল্প খাতের সংগঠনগুলোর দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে। শিল্পাঞ্চলের ব্যাংকগুলো খোলা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কারখানাগুলো দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করতে পারে। অনেক কারখানাই ইতোমধ্যে মার্চ মাসের অগ্রিম বেতন দিয়েছে এবং ধাপে ধাপে ঈদের ছুটি শুরু করছে।

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা | জাতীয় | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কর্তৃপক্ষ

শিল্প মালিকদের সংগঠনগুলো জানিয়েছে, কোনো কারখানা শেষ মুহূর্তে সমস্যায় পড়লে সমাধানের জন্য তারা এগিয়ে আসবে। এতে করে ঈদের আগে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।