যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে কিউবা “নেওয়ার” কথা বলায় নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে জ্বালানি সংকটে কিউবা কার্যত বিপর্যস্ত অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, খাদ্য সংকট ও চিকিৎসা সেবায় ব্যাঘাত প্রতিদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন সংকেত
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি কিউবাকে “নেওয়ার সম্মান” পেতে পারেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে দেশটিকে মুক্ত করা কিংবা নিয়ন্ত্রণ নেওয়া—সবকিছুই তার পক্ষে সম্ভব।
এমন মন্তব্য অতীতে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে শোনা যায়নি। কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন থাকলেও সরাসরি দেশটি দখলের কথা এভাবে প্রকাশ্যে বলা নজিরবিহীন।

সামরিক পদক্ষেপ ও কৌশলগত চাপ
ইরান ও ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অনেকেই কেবল কথার কথা হিসেবে দেখছেন না। বরং এটি একটি ধারাবাহিক কৌশলের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের পর কিউবাকে নিয়ে পদক্ষেপ আসতে পারে।
জ্বালানি অবরোধে কিউবার সংকট
জানুয়ারির শুরু থেকে কিউবার ওপর কার্যত তেল অবরোধ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্য দেশগুলোকে তেল সরবরাহ না করতে চাপ দেওয়া হয়েছে, এমনকি একটি তেলবাহী জাহাজও আটক করা হয়েছে।
এর ফলে দেশটিতে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কালোবাজারে পেট্রোলের দাম আকাশছোঁয়া, বিদ্যুৎ প্রতিদিনই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে ব্ল্যাকআউটের ঘটনাও ঘটেছে।
অপারেশন পিছিয়ে যাচ্ছে, ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।

আলোচনায় বসতে বাধ্য কিউবা
এই চাপে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং অর্থনীতি কিছুটা উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, বর্তমান নেতৃত্বে পরিবর্তন চাওয়া হচ্ছে।
প্রবাসী কিউবানদের চাপ ও রাজনৈতিক জটিলতা
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান বংশোদ্ভূতদের একটি বড় অংশ কিউবায় রাজনৈতিক পরিবর্তন চায়। তারা কাস্ত্রো পরিবারের প্রভাব সম্পূর্ণভাবে সরানোর দাবি জানাচ্ছে।
দশকের পর দশক আগে বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তি ফেরত, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও রয়েছে তাদের মধ্যে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের আভাস
চাপের মুখে কিউবা বিদেশে থাকা নাগরিকদের বিনিয়োগ, ব্যাংকিং ও ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে টেলিভিশনের বদলে রেডিওতে এই ঘোষণা দিতে হয়েছে, যা সংকটের গভীরতাই তুলে ধরে।
ট্রাম্পের দৃষ্টিতে কিউবার সম্ভাবনা
ব্যবসায়ী হিসেবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কিউবাকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে দেখেছেন। তিনি দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
বর্তমানে তিনি কিউবাকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলছেন, সঠিক সময় এলে সেখানে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















