০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
আফগান নীতি ভাঙনের মুখে পাকিস্তান, ইতিহাসের কঠিন শিক্ষা সামনে জারার বিলাসী রূপান্তর: সস্তা ফ্যাশন থেকে প্রিমিয়াম সাম্রাজ্যে উত্থান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: বিশ্ব নেতৃত্বের পরীক্ষায় আমেরিকা, ব্যর্থ হলে কাঁপবে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য আসামে জঙ্গি হামলা: গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণে আহত ৪, পালিয়ে গেল হামলাকারীরা শিশুদের ক্ষতির দায়ে প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরুদ্ধে রায়, সামাজিক মাধ্যম নিয়ে নতুন দিগন্তের সূচনা মঙ্গালুরু বন্দরে জ্বালানির জোয়ার, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল-গ্যাস আনলো জাহাজ ডিজেলের সিন্ডিকেটে জিম্মি ঝিনাইদহ, চাষাবাদে বাড়ছে খরচে কৃষকের দিশেহারা অবস্থা চাল-গম সংগ্রহে বড় ঘাটতি, সংসদীয় কমিটির সতর্কবার্তা—পরিকল্পনা জোরদারের তাগিদ রানের জাদুতে নতুন নায়ক স্মরণ, রঞ্জি ট্রফিতে ঝড় তুলে আইপিএল স্বপ্নে চোখ তেলবাজারে ধাক্কা, যুদ্ধ থামাতে প্রস্তাব—ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে

ষাটের দশকের ঢাকায় ঈদের স্মৃতি

ঢাকা তখন আজকের মতো ব্যস্ত, উঁচু অট্টালিকার শহর নয়—বরং শান্ত, ছিমছাম, অনেকটা আপন-আপন গন্ধে ভরা এক শহর। ষাটের দশকের ঈদ মানেই ছিল এক ধরনের সরল আনন্দ, যেখানে আড়ম্বরের চেয়ে আন্তরিকতার রং ছিল বেশি গাঢ়।

চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ

ঈদের চাঁদ দেখার মধ্যেই শুরু হতো উচ্ছ্বাস। রেডিওতে খবর শোনার অপেক্ষা, কিংবা পাড়ার কারও ছাদ থেকে “চাঁদ দেখা গেছে!”—এই ঘোষণা যেন মুহূর্তেই সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিত উৎসবের স্রোত। শিশুরা ছুটে বেড়াত, বড়রা হাসিমুখে একে অন্যকে জানাত শুভেচ্ছা।

চাঁদ রাত ছিল এক অন্যরকম জাদুর সময়। নিউ মার্কেট বা চকবাজারে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা, টেইলরের দোকানে ভিড়—“কাল সকালেই চাই”—এই অনুরোধে ব্যস্ত সময় কাটাত মানুষ। নতুন কাপড়ের গন্ধ, আতরের হালকা সুবাস, আর মায়ের হাতে বানানো সেমাইয়ের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে তৈরি হতো এক মায়াবী আবহ।

ঈদের সকাল শুরু হতো খুব ভোরে। বাবা বা বড় ভাইয়ের সঙ্গে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে ঈদগাহে নামাজ পড়তে যাওয়া ছিল এক গর্বের বিষয়। রাস্তাঘাট তখন প্রায় ফাঁকা, কিন্তু মানুষের মুখে ছিল আলাদা এক উজ্জ্বলতা। নামাজ শেষে কোলাকুলি—“ঈদ মোবারক”—এই দুটি শব্দে যেন জমে থাকত পুরো বছরের ভালোবাসা।

ঈদুল ফিতর: সম্প্রীতির বন্ধনে এক মহিমান্বিত উৎসব | The Daily Campus

বাড়িতে ফিরে অপেক্ষা করত সেমাই, পোলাও, কোরমা। রান্নার স্বাদে ছিল ঘরের উষ্ণতা। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি যাওয়া, বিশেষ করে নানা-নানির বাড়ি, ছিল ঈদের সবচেয়ে আনন্দের অংশ। ‘সালামি’ পাওয়ার উত্তেজনা শিশুদের চোখে মুখে ঝলমল করত।

তখনকার ঈদে প্রযুক্তির ছোঁয়া ছিল না, ছিল না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিড়। তবু সম্পর্কগুলো ছিল গভীর, সময়গুলো ছিল ধীর আর অর্থবহ। একটি সাদামাটা নতুন জামা, কয়েকজন প্রিয় মানুষ আর একসাথে কাটানো সময়—এই ছোট ছোট জিনিসই ঈদকে করে তুলত অসাধারণ।

আজকের ঢাকায় ঈদ এসেছে আধুনিকতার মোড়কে, কিন্তু ষাটের দশকের সেই ঈদ ছিল হৃদয়ের খুব কাছে—নির্মল, আন্তরিক, আর চিরস্মরণীয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান নীতি ভাঙনের মুখে পাকিস্তান, ইতিহাসের কঠিন শিক্ষা সামনে

ষাটের দশকের ঢাকায় ঈদের স্মৃতি

০৯:৫২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ঢাকা তখন আজকের মতো ব্যস্ত, উঁচু অট্টালিকার শহর নয়—বরং শান্ত, ছিমছাম, অনেকটা আপন-আপন গন্ধে ভরা এক শহর। ষাটের দশকের ঈদ মানেই ছিল এক ধরনের সরল আনন্দ, যেখানে আড়ম্বরের চেয়ে আন্তরিকতার রং ছিল বেশি গাঢ়।

চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ

ঈদের চাঁদ দেখার মধ্যেই শুরু হতো উচ্ছ্বাস। রেডিওতে খবর শোনার অপেক্ষা, কিংবা পাড়ার কারও ছাদ থেকে “চাঁদ দেখা গেছে!”—এই ঘোষণা যেন মুহূর্তেই সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিত উৎসবের স্রোত। শিশুরা ছুটে বেড়াত, বড়রা হাসিমুখে একে অন্যকে জানাত শুভেচ্ছা।

চাঁদ রাত ছিল এক অন্যরকম জাদুর সময়। নিউ মার্কেট বা চকবাজারে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা, টেইলরের দোকানে ভিড়—“কাল সকালেই চাই”—এই অনুরোধে ব্যস্ত সময় কাটাত মানুষ। নতুন কাপড়ের গন্ধ, আতরের হালকা সুবাস, আর মায়ের হাতে বানানো সেমাইয়ের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে তৈরি হতো এক মায়াবী আবহ।

ঈদের সকাল শুরু হতো খুব ভোরে। বাবা বা বড় ভাইয়ের সঙ্গে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে ঈদগাহে নামাজ পড়তে যাওয়া ছিল এক গর্বের বিষয়। রাস্তাঘাট তখন প্রায় ফাঁকা, কিন্তু মানুষের মুখে ছিল আলাদা এক উজ্জ্বলতা। নামাজ শেষে কোলাকুলি—“ঈদ মোবারক”—এই দুটি শব্দে যেন জমে থাকত পুরো বছরের ভালোবাসা।

ঈদুল ফিতর: সম্প্রীতির বন্ধনে এক মহিমান্বিত উৎসব | The Daily Campus

বাড়িতে ফিরে অপেক্ষা করত সেমাই, পোলাও, কোরমা। রান্নার স্বাদে ছিল ঘরের উষ্ণতা। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি যাওয়া, বিশেষ করে নানা-নানির বাড়ি, ছিল ঈদের সবচেয়ে আনন্দের অংশ। ‘সালামি’ পাওয়ার উত্তেজনা শিশুদের চোখে মুখে ঝলমল করত।

তখনকার ঈদে প্রযুক্তির ছোঁয়া ছিল না, ছিল না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিড়। তবু সম্পর্কগুলো ছিল গভীর, সময়গুলো ছিল ধীর আর অর্থবহ। একটি সাদামাটা নতুন জামা, কয়েকজন প্রিয় মানুষ আর একসাথে কাটানো সময়—এই ছোট ছোট জিনিসই ঈদকে করে তুলত অসাধারণ।

আজকের ঢাকায় ঈদ এসেছে আধুনিকতার মোড়কে, কিন্তু ষাটের দশকের সেই ঈদ ছিল হৃদয়ের খুব কাছে—নির্মল, আন্তরিক, আর চিরস্মরণীয়।