১১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ

হাতে গড়া ঐতিহ্য: গ্রামবাংলার চালের সেমাই তৈরির হারানো গল্প

এক সময়ের গ্রামবাংলার রান্নাঘর মানেই ছিল ধোঁয়া ওঠা চুলা, কাঁসার হাঁড়ি আর পরম মমতায় তৈরি ঘরোয়া খাবার। সেইসব দিনের এক বিশেষ স্মৃতি হলো “চালের সেমাই” বানানোর প্রথা—যা আজকের ব্যস্ত জীবনে প্রায় হারিয়েই গেছে।

আগেকার দিনে বাজারে প্যাকেটজাত সেমাই সহজলভ্য ছিল না। তাই ঘরের মেয়েরাই নিজের হাতে চাল থেকে সেমাই তৈরি করতেন। এই প্রক্রিয়াটি ছিল ধৈর্য, দক্ষতা আর অভিজ্ঞতার এক অনন্য মিশেল।

প্রথমে ভালো মানের আতপ চাল বেছে নিয়ে তা পরিষ্কার করে ধুয়ে নেওয়া হতো। তারপর কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে শুকনো কাপড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। চাল যখন খানিকটা শুকিয়ে যেত, তখন শিলপাটা বা ঢেঁকিতে তা বেটে সূক্ষ্ম গুঁড়ো করা হতো। এই চালের গুঁড়োই ছিল সেমাই তৈরির মূল উপাদান।

এরপর শুরু হতো আসল কাজ। চালের গুঁড়োর সঙ্গে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে শক্ত করে মণ্ড তৈরি করা হতো। এই মণ্ড থেকে ছোট ছোট লেচি বানিয়ে বিশেষ ধরনের ছাঁচ বা হাতের কৌশলে পাতলা সুতো মতো করে সেমাই বের করা হতো। অনেক সময় নারীরা মাটির পরিষ্কার জায়গা বা মাদুরের ওপর এই সেমাইগুলো ছড়িয়ে রোদে শুকাতে দিতেন।

রোদে শুকানো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভালোভাবে শুকানো না হলে সেমাই সংরক্ষণ করা যেত না। শুকিয়ে গেলে এগুলো কৌটো বা পাত্রে রেখে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হতো।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি শুধু রান্নার কাজই ছিল না—এটি ছিল এক ধরনের সামাজিক আয়োজনও। পাড়ার মহিলারা একসঙ্গে বসে গল্প করতে করতে সেমাই বানাতেন। হাসি, গান আর গল্পে ভরে উঠত সেই সময়গুলো।

আজকের দিনে আমরা সহজেই দোকান থেকে সেমাই কিনে নিতে পারি। কিন্তু সেই হাতে বানানো চালের সেমাইয়ের স্বাদ, ঘ্রাণ আর ভালোবাসা—তা আর কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এই ঐতিহ্য শুধু খাবারের নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক মূল্যবান অংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা

হাতে গড়া ঐতিহ্য: গ্রামবাংলার চালের সেমাই তৈরির হারানো গল্প

১২:০১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
এক সময়ের গ্রামবাংলার রান্নাঘর মানেই ছিল ধোঁয়া ওঠা চুলা, কাঁসার হাঁড়ি আর পরম মমতায় তৈরি ঘরোয়া খাবার। সেইসব দিনের এক বিশেষ স্মৃতি হলো “চালের সেমাই” বানানোর প্রথা—যা আজকের ব্যস্ত জীবনে প্রায় হারিয়েই গেছে।

আগেকার দিনে বাজারে প্যাকেটজাত সেমাই সহজলভ্য ছিল না। তাই ঘরের মেয়েরাই নিজের হাতে চাল থেকে সেমাই তৈরি করতেন। এই প্রক্রিয়াটি ছিল ধৈর্য, দক্ষতা আর অভিজ্ঞতার এক অনন্য মিশেল।

প্রথমে ভালো মানের আতপ চাল বেছে নিয়ে তা পরিষ্কার করে ধুয়ে নেওয়া হতো। তারপর কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে শুকনো কাপড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। চাল যখন খানিকটা শুকিয়ে যেত, তখন শিলপাটা বা ঢেঁকিতে তা বেটে সূক্ষ্ম গুঁড়ো করা হতো। এই চালের গুঁড়োই ছিল সেমাই তৈরির মূল উপাদান।

এরপর শুরু হতো আসল কাজ। চালের গুঁড়োর সঙ্গে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে শক্ত করে মণ্ড তৈরি করা হতো। এই মণ্ড থেকে ছোট ছোট লেচি বানিয়ে বিশেষ ধরনের ছাঁচ বা হাতের কৌশলে পাতলা সুতো মতো করে সেমাই বের করা হতো। অনেক সময় নারীরা মাটির পরিষ্কার জায়গা বা মাদুরের ওপর এই সেমাইগুলো ছড়িয়ে রোদে শুকাতে দিতেন।

রোদে শুকানো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভালোভাবে শুকানো না হলে সেমাই সংরক্ষণ করা যেত না। শুকিয়ে গেলে এগুলো কৌটো বা পাত্রে রেখে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হতো।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি শুধু রান্নার কাজই ছিল না—এটি ছিল এক ধরনের সামাজিক আয়োজনও। পাড়ার মহিলারা একসঙ্গে বসে গল্প করতে করতে সেমাই বানাতেন। হাসি, গান আর গল্পে ভরে উঠত সেই সময়গুলো।

আজকের দিনে আমরা সহজেই দোকান থেকে সেমাই কিনে নিতে পারি। কিন্তু সেই হাতে বানানো চালের সেমাইয়ের স্বাদ, ঘ্রাণ আর ভালোবাসা—তা আর কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এই ঐতিহ্য শুধু খাবারের নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক মূল্যবান অংশ।