আগেকার দিনে বাজারে প্যাকেটজাত সেমাই সহজলভ্য ছিল না। তাই ঘরের মেয়েরাই নিজের হাতে চাল থেকে সেমাই তৈরি করতেন। এই প্রক্রিয়াটি ছিল ধৈর্য, দক্ষতা আর অভিজ্ঞতার এক অনন্য মিশেল।
প্রথমে ভালো মানের আতপ চাল বেছে নিয়ে তা পরিষ্কার করে ধুয়ে নেওয়া হতো। তারপর কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে শুকনো কাপড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। চাল যখন খানিকটা শুকিয়ে যেত, তখন শিলপাটা বা ঢেঁকিতে তা বেটে সূক্ষ্ম গুঁড়ো করা হতো। এই চালের গুঁড়োই ছিল সেমাই তৈরির মূল উপাদান।

এরপর শুরু হতো আসল কাজ। চালের গুঁড়োর সঙ্গে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে শক্ত করে মণ্ড তৈরি করা হতো। এই মণ্ড থেকে ছোট ছোট লেচি বানিয়ে বিশেষ ধরনের ছাঁচ বা হাতের কৌশলে পাতলা সুতো মতো করে সেমাই বের করা হতো। অনেক সময় নারীরা মাটির পরিষ্কার জায়গা বা মাদুরের ওপর এই সেমাইগুলো ছড়িয়ে রোদে শুকাতে দিতেন।
রোদে শুকানো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভালোভাবে শুকানো না হলে সেমাই সংরক্ষণ করা যেত না। শুকিয়ে গেলে এগুলো কৌটো বা পাত্রে রেখে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হতো।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি শুধু রান্নার কাজই ছিল না—এটি ছিল এক ধরনের সামাজিক আয়োজনও। পাড়ার মহিলারা একসঙ্গে বসে গল্প করতে করতে সেমাই বানাতেন। হাসি, গান আর গল্পে ভরে উঠত সেই সময়গুলো।
আজকের দিনে আমরা সহজেই দোকান থেকে সেমাই কিনে নিতে পারি। কিন্তু সেই হাতে বানানো চালের সেমাইয়ের স্বাদ, ঘ্রাণ আর ভালোবাসা—তা আর কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এই ঐতিহ্য শুধু খাবারের নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক মূল্যবান অংশ।
সারাক্ষণ প্রতিবেদন 



















