০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

পাওয়েল বনাম ট্রাম্প: ফেডে নেতৃত্ব সংকট ঘনীভূত, পদ ছাড়ছেন না চেয়ারম্যান

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফেডের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদ ছাড়ার কোনো ইচ্ছা রাখেন না। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার নিয়েছে এবং ফেডের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনড় পাওয়েল

পাওয়েলের চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ১৫ মে। তবে তিনি ফেড বোর্ডের সদস্য হিসেবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকতে পারেন। সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তদন্ত পুরোপুরি স্বচ্ছতা ও চূড়ান্ততার সঙ্গে শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন।

এই অবস্থান ফেডের ইতিহাসে বিরল। সাধারণত চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হলে তারা বোর্ডেও আর থাকেন না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পাওয়েলের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির স্থিতিশীলতা রক্ষার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

ইরানে সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন!

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বাধা

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই পাওয়েলকে সরাতে আগ্রহী। কিন্তু পাওয়েল যদি পদে বহাল থাকেন, তাহলে ফেড বোর্ডে নিজের পছন্দের সংখ্যাগরিষ্ঠতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। বর্তমানে বোর্ডের সাত সদস্যের মধ্যে তিনজনই ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত।

পাওয়েল সরে দাঁড়ালে ট্রাম্প সহজেই বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারতেন। কিন্তু তার অবস্থান এখন সেই পথকে কঠিন করে তুলেছে।

নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগে জট

পাওয়েলের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত কেভিন ওয়ারশের অনুমোদনও আটকে গেছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিনেটে তার নিয়োগ নিয়ে ভোট হবে না বলে জানানো হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Trump Wants Powell Out. Powell Is Digging In. - WSJ

এই পরিস্থিতিতে পাওয়েল জানিয়েছেন, যদি নতুন চেয়ারম্যান সময়মতো অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন।

আইনি লড়াই ও চাপের অভিযোগ

পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তটি মূলত কংগ্রেসে দেওয়া তার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। তবে সম্প্রতি এক ফেডারেল বিচারক মন্তব্য করেছেন, এই তদন্তের সমনগুলো হয়রানি ও চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রসিকিউটর পক্ষ এই রায় চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সুদের হার নিয়ে দ্বন্দ্ব

এই সংকটের মাঝেই সুদের হার নিয়েও মতবিরোধ বাড়ছে। ট্রাম্প সুদের হার কমানোর চাপ দিলেও ফেড তা অপরিবর্তিত রেখেছে। পাওয়েল জানিয়েছেন, অর্থনীতিতে দুর্বলতার স্পষ্ট লক্ষণ বা মূল্যস্ফীতির অগ্রগতি না দেখা গেলে সুদের হার কমানো হবে না।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ: বাংলাদেশে জ্বালানি,রেমিটেন্স,  খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ে শঙ্কা - BBC News বাংলা

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পণ্যমূল্য বাড়ার আশঙ্কা থাকায় মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। ফলে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা আপাতত কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নেতৃত্ব ও নীতির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ফেড এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে শুধু সুদের হার বাড়বে না কমবে, সেই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় পরবর্তী বড় সিদ্ধান্ত কে নেবে, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ফেডের স্বাধীনতা, নীতিনির্ধারণ এবং রাজনৈতিক চাপ—সবকিছুই একসঙ্গে পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

পাওয়েল বনাম ট্রাম্প: ফেডে নেতৃত্ব সংকট ঘনীভূত, পদ ছাড়ছেন না চেয়ারম্যান

১০:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফেডের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদ ছাড়ার কোনো ইচ্ছা রাখেন না। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার নিয়েছে এবং ফেডের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনড় পাওয়েল

পাওয়েলের চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ১৫ মে। তবে তিনি ফেড বোর্ডের সদস্য হিসেবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকতে পারেন। সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তদন্ত পুরোপুরি স্বচ্ছতা ও চূড়ান্ততার সঙ্গে শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন।

এই অবস্থান ফেডের ইতিহাসে বিরল। সাধারণত চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হলে তারা বোর্ডেও আর থাকেন না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পাওয়েলের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির স্থিতিশীলতা রক্ষার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

ইরানে সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন!

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বাধা

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই পাওয়েলকে সরাতে আগ্রহী। কিন্তু পাওয়েল যদি পদে বহাল থাকেন, তাহলে ফেড বোর্ডে নিজের পছন্দের সংখ্যাগরিষ্ঠতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। বর্তমানে বোর্ডের সাত সদস্যের মধ্যে তিনজনই ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত।

পাওয়েল সরে দাঁড়ালে ট্রাম্প সহজেই বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারতেন। কিন্তু তার অবস্থান এখন সেই পথকে কঠিন করে তুলেছে।

নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগে জট

পাওয়েলের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত কেভিন ওয়ারশের অনুমোদনও আটকে গেছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিনেটে তার নিয়োগ নিয়ে ভোট হবে না বলে জানানো হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Trump Wants Powell Out. Powell Is Digging In. - WSJ

এই পরিস্থিতিতে পাওয়েল জানিয়েছেন, যদি নতুন চেয়ারম্যান সময়মতো অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন।

আইনি লড়াই ও চাপের অভিযোগ

পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তটি মূলত কংগ্রেসে দেওয়া তার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। তবে সম্প্রতি এক ফেডারেল বিচারক মন্তব্য করেছেন, এই তদন্তের সমনগুলো হয়রানি ও চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রসিকিউটর পক্ষ এই রায় চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সুদের হার নিয়ে দ্বন্দ্ব

এই সংকটের মাঝেই সুদের হার নিয়েও মতবিরোধ বাড়ছে। ট্রাম্প সুদের হার কমানোর চাপ দিলেও ফেড তা অপরিবর্তিত রেখেছে। পাওয়েল জানিয়েছেন, অর্থনীতিতে দুর্বলতার স্পষ্ট লক্ষণ বা মূল্যস্ফীতির অগ্রগতি না দেখা গেলে সুদের হার কমানো হবে না।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ: বাংলাদেশে জ্বালানি,রেমিটেন্স,  খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ে শঙ্কা - BBC News বাংলা

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পণ্যমূল্য বাড়ার আশঙ্কা থাকায় মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। ফলে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা আপাতত কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নেতৃত্ব ও নীতির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ফেড এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে শুধু সুদের হার বাড়বে না কমবে, সেই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় পরবর্তী বড় সিদ্ধান্ত কে নেবে, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ফেডের স্বাধীনতা, নীতিনির্ধারণ এবং রাজনৈতিক চাপ—সবকিছুই একসঙ্গে পরীক্ষার মুখে পড়েছে।