যুক্তরাষ্ট্রে জীবিত ও দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টকে মুদ্রায় স্থান দেওয়ার বিরল সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফেডারেল পর্যায়ের একটি নকশা পর্যালোচনা প্যানেল সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সম্বলিত একটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রার নকশা অনুমোদন দিয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিরল সিদ্ধান্তে অনুমোদন
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইন আর্টস কমিশন সর্বসম্মতিক্রমে এই নকশা অনুমোদন করে। প্যানেলটি মুদ্রাটি যত বড় সম্ভব করার পরামর্শও দিয়েছে। তবে মুদ্রাটির চূড়ান্ত আকার ও মূল্যমান এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই স্বর্ণমুদ্রার এক পাশে গম্ভীর মুখভঙ্গিতে সামনের দিকে ঝুঁকে থাকা ট্রাম্পের প্রতিকৃতি থাকবে এবং অপর পাশে থাকবে ঈগলের ছবি। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি কর্মকর্তারা এটিকে দেশের গণতন্ত্র ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
২৫০ বছর উদযাপনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা
দেশটির ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনকে সামনে রেখে এই মুদ্রা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রশাসন ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সম্বলিত একটি ডলার মুদ্রার প্রস্তাবও দিয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা নাগরিক উপদেষ্টা কমিটি বিষয়টি তাদের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এর ফলে বিকল্প আইনি পথ ব্যবহার করে ট্রেজারি বিভাগ স্মারক স্বর্ণমুদ্রা তৈরির উদ্যোগ নেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প নিজেও মুদ্রার নকশা পর্যালোচনা করেছেন।
সমালোচনায় ডেমোক্র্যাট ও বিশেষজ্ঞরা
এই উদ্যোগকে তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা ও মুদ্রা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জীবিত প্রেসিডেন্টকে মুদ্রায় স্থান দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি রাজতান্ত্রিক মানসিকতার প্রতিফলন।
একজন সিনেটর এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এটি দেশের মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে যায়।
ইতিহাসে বিরল নজির
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে জীবিত প্রেসিডেন্টের মুদ্রায় উপস্থিতির নজির খুবই সীমিত। ১৯২৬ সালে দেশের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজকে জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি স্মারক মুদ্রায় দেখানো হয়েছিল। তবে সাধারণভাবে প্রেসিডেন্টদের মৃত্যুর পরই তাদের প্রতিকৃতি মুদ্রায় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।
এই নতুন সিদ্ধান্ত তাই কেবল একটি মুদ্রা প্রকাশ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















