০১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

তেলের দাম ১৮০ ডলারে উঠতে পারে, আশঙ্কায় সৌদি আরব

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৮০ ডলারে পৌঁছাতে পারে—এমন আশঙ্কা করছে সৌদি আরব। এই সম্ভাবনা শুধু বাজার নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটে দাম বাড়ার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কাতার ও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে হামলা বাড়ায় হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়, ফলে সরবরাহ সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Saudi Arabia's Extended Production Cuts Could Mean Higher Oil Prices Ahead

ধাপে ধাপে বাড়তে পারে তেলের দাম

বর্তমানে তেলের আন্তর্জাতিক সূচক মূল্য ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে খুব দ্রুত দাম আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রথমে দাম ১৩৮ থেকে ১৪০ ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। এরপর এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে তা ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে ১৬৫ ডলার এবং শেষ পর্যন্ত ১৮০ ডলারের কাছাকাছি চলে যেতে পারে বলে ধারণা সৌদি কর্মকর্তাদের।

বেশি দামেই উদ্বিগ্ন সৌদি আরব

তেলের দাম বাড়া সাধারণভাবে উৎপাদনকারী দেশের জন্য লাভজনক হলেও সৌদি আরব এতে স্বস্তিতে নেই। কারণ অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে ভোগ কমিয়ে দিতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝোঁক বাড়তে পারে এবং তেলের চাহিদা কমে যেতে পারে।

The $108 Oil War: Can the Middle East Crash the World Economy? - Bloomberg

বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত দাম বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

বাজারে অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ হিসাব

সৌদি আরব এখন বাজারের ভবিষ্যৎ প্রবণতা নির্ধারণে ব্যস্ত। এপ্রিলের শুরুতেই তাদের সরকারি বিক্রয়মূল্য ঘোষণা করতে হবে, তাই বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তারা নানা হিসাব কষছে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাজারে আরও অস্থিরতা বাড়বে এবং দাম নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হয়ে উঠছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

তেলের দাম ১৮০ ডলারে উঠতে পারে, আশঙ্কায় সৌদি আরব

১১:৫১:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৮০ ডলারে পৌঁছাতে পারে—এমন আশঙ্কা করছে সৌদি আরব। এই সম্ভাবনা শুধু বাজার নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটে দাম বাড়ার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কাতার ও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে হামলা বাড়ায় হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়, ফলে সরবরাহ সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Saudi Arabia's Extended Production Cuts Could Mean Higher Oil Prices Ahead

ধাপে ধাপে বাড়তে পারে তেলের দাম

বর্তমানে তেলের আন্তর্জাতিক সূচক মূল্য ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে খুব দ্রুত দাম আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রথমে দাম ১৩৮ থেকে ১৪০ ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। এরপর এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে তা ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে ১৬৫ ডলার এবং শেষ পর্যন্ত ১৮০ ডলারের কাছাকাছি চলে যেতে পারে বলে ধারণা সৌদি কর্মকর্তাদের।

বেশি দামেই উদ্বিগ্ন সৌদি আরব

তেলের দাম বাড়া সাধারণভাবে উৎপাদনকারী দেশের জন্য লাভজনক হলেও সৌদি আরব এতে স্বস্তিতে নেই। কারণ অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে ভোগ কমিয়ে দিতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝোঁক বাড়তে পারে এবং তেলের চাহিদা কমে যেতে পারে।

The $108 Oil War: Can the Middle East Crash the World Economy? - Bloomberg

বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত দাম বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

বাজারে অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ হিসাব

সৌদি আরব এখন বাজারের ভবিষ্যৎ প্রবণতা নির্ধারণে ব্যস্ত। এপ্রিলের শুরুতেই তাদের সরকারি বিক্রয়মূল্য ঘোষণা করতে হবে, তাই বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তারা নানা হিসাব কষছে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাজারে আরও অস্থিরতা বাড়বে এবং দাম নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হয়ে উঠছে।