বিশ্ব আবারও গ্যাস সংকটের নতুন ধাক্কায় পড়েছে। ইউরোপে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও এবার মধ্যপ্রাচ্য থেকেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও বাস্তবতা বলছে, গ্যাসের ওপর নির্ভরতা একেবারে শেষ হচ্ছে না।
নবায়নযোগ্য শক্তির অগ্রগতি, তবুও সীমাবদ্ধতা
বিশ্বের অনেক দেশ সৌর ও বায়ু শক্তিতে বড় বিনিয়োগ করছে। স্পেনের মতো দেশে গ্যাসের প্রভাব কমেছে, আর পাকিস্তানে সৌর শক্তির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে আমদানি ব্যয়ও কমেছে। তবুও সমস্যা হলো, সূর্য সবসময় থাকে না, বাতাসও সবসময় বইতে থাকে না। ফলে পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা এখনো অটুট
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য শক্তি বাড়লেও গ্যাস পুরোপুরি বাদ যাবে না। বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এমন সময় আসে যখন প্রায় পুরো চাহিদা পূরণ করতে হয় জীবাশ্ম জ্বালানি দিয়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ধরে রাখতে বর্তমান ব্যাটারি প্রযুক্তি এখনো যথেষ্ট নয়। জলবিদ্যুৎ, পারমাণবিক শক্তি কিংবা নতুন প্রযুক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ঝুঁকি কমাতে কী করতে হবে
গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারগুলোকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে হবে। সময়ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ করলে মানুষ সস্তা সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে। একই সঙ্গে শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়বে। বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়ালে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।

ভবিষ্যতের বাস্তবতা
গ্যাস পুরোপুরি এড়ানো না গেলেও এর ধাক্কা কমানো সম্ভব। নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ কমবে। তবে বর্তমান বিশ্বে গ্যাস এখনো বিদ্যুৎ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















