দেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে বড় ধরনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় দেশের সব পেট্রল পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে পরিবহন ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
জ্বালানি ঘাটতিতে পাম্পে দীর্ঘ লাইন
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে সরবরাহকৃত দৈনিক জ্বালানি দিয়ে চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। ফলে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে পাম্পে কর্মরতদের ওপরও শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

অল্প সময়েই শেষ হচ্ছে মজুদ
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কয়েকদিন চলার মতো জ্বালানি মজুদ থাকলেও অতিরিক্ত চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত ক্রয়ের কারণে তা অল্প সময়েই শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিকবার জ্বালানি সংগ্রহ করে বাইরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে আতঙ্ক
পেট্রল পাম্পগুলোতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে গিয়ে জোরপূর্বক জ্বালানি নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এমনকি লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পরিবহন ঝুঁকিতে জ্বালানি সরবরাহ
ডিপো থেকে জ্বালানি পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ট্যাংকার লুটের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জ্বালানি উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।
জরুরি সেবাও হুমকিতে
সংকটের তীব্রতায় এমন অবস্থাও তৈরি হয়েছে যে, অনেক পাম্পে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ন্যূনতম জ্বালানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে জরুরি চিকিৎসা সেবাও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেট্রল পাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















