ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের আকস্মিক মিছিল ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। ঈদের ছুটির মধ্যেই ভোরবেলায় এই ঝটিকা কর্মসূচি ঘিরে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভোরের ঝটিকা মিছিল, দ্রুত সরে যায় অংশগ্রহণকারীরা
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় হঠাৎ করেই এই মিছিল দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী এতে অংশ নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা রাজু ভাস্কর্যের সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পুরো ঘটনাটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়, তবে ভিডিওচিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
প্রশাসনের নজরে বিষয়টি, তদন্ত চলছে
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোরের দিকে একটি দল মেট্রোরেল স্টেশন এলাকা থেকে এসে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করে দ্রুত চলে যায়। ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হলেও অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় এখনও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থী সংগঠনের ক্ষোভ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একটি ছাত্র সংগঠন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা যখন ছুটিতে ক্যাম্পাসের বাইরে, তখন এই সুযোগে এমন মিছিল সংগঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পার হলেও দৃশ্যমান কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে এবং আগামী সময়ে এ বিষয়ে অগ্রগতির তথ্য দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে
মিছিলের ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় বিভিন্ন ইস্যুতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এতে করে ঘটনাটি আরও বেশি করে জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
প্রেক্ষাপট: নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম প্রকাশ্য মিছিল
গত বছরের গণআন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই মিছিলকে নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা নতুন করে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















