০১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

হরমুজ প্রণালী বন্ধে তেলের দাম উল্লম্ফন, নতুন শক্তি পাচ্ছে রাশিয়ার অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ এখন সরাসরি আঘাত হানছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে, আর সেই শূন্যস্থান পূরণে অপ্রত্যাশিতভাবে সুবিধা পাচ্ছে রাশিয়া। এক সময় যে দেশটি নিষেধাজ্ঞার চাপে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল, এখন তেলের দাম বৃদ্ধির ঢেউয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়ার পর হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন হতো। হঠাৎ সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে তৈরি হয় তীব্র সংকট।

কয়েক মাস আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তুলনামূলক কম ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা দ্রুত বেড়ে গেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু বাজারে চাপ সৃষ্টি করেনি, বরং বিকল্প তেল সরবরাহকারীদের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি করেছে।

অর্থনীতি সামাল দিতে জ্বালানি খাত পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ সিরিয়ায়

রাশিয়ার জন্য অপ্রত্যাশিত স্বস্তি

এই সংকটের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, রপ্তানি সীমাবদ্ধতা এবং বড় ক্রেতাদের দূরে সরে যাওয়ার কারণে দেশটির জ্বালানি খাত একসময় চাপে ছিল।

কিন্তু এখন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের অভাবে রাশিয়ার তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ভারত ও চীনের মতো বড় ক্রেতারা আবারও রুশ তেল আমদানি বাড়িয়েছে। ফলে আগে যেসব তেল বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছিল, এখন সেগুলো সহজেই বাজারে যাচ্ছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাড়ছে রাজস্ব, কমছে চাপ

তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার রাজস্ব আয়ও দ্রুত বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম সামান্য বাড়লেই রাশিয়ার আয়ে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটে। এই অতিরিক্ত অর্থ সরকারের বাজেট ঘাটতি কমাতে সাহায্য করছে এবং অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনছে।

এর ফলে যুদ্ধকালীন ব্যয় মেটানো এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়াও কিছুটা সহজ হয়ে উঠছে।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শিথিল হওয়ার আশঙ্কা

বর্তমান জ্বালানি সংকট পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, আর সেই কারণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা আগের মতো দৃঢ় থাকছে না।

একদিকে জ্বালানির চাহিদা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বাস্তবতা—এই দ্বন্দ্ব পশ্চিমা কৌশলকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এতে করে রাশিয়ার ওপর চাপ কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

China, Russia forged a new paradigm of major-country relations different  from obsolete Cold War approach: Wang Yi - Global Times

চীন-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় চীন বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে স্থলপথে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।

সাময়িক লাভ, দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা

তবে এই ইতিবাচক পরিস্থিতি যে স্থায়ী হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রাশিয়ার তেল উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত, এবং চলমান সংঘাতের কারণে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম | | বাংলাদেশ  প্রতিদিন

অন্যদিকে, তেলের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে বৈশ্বিক চাহিদা কমে যেতে পারে, যা আবার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে বর্তমান সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে।

সংকটের আড়ালে বাস্তবতা

সব মিলিয়ে হরমুজ সংকট রাশিয়ার জন্য এক ধরনের অস্থায়ী স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে এটি গভীর অর্থনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।

বিশ্ব রাজনীতির এই জটিল খেলায় জ্বালানি বাজারের প্রতিটি পরিবর্তন নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, আর সেই সমীকরণেই আপাতত লাভের মুখ দেখছে রাশিয়া।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

হরমুজ প্রণালী বন্ধে তেলের দাম উল্লম্ফন, নতুন শক্তি পাচ্ছে রাশিয়ার অর্থনীতি

০৩:৪৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ এখন সরাসরি আঘাত হানছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে, আর সেই শূন্যস্থান পূরণে অপ্রত্যাশিতভাবে সুবিধা পাচ্ছে রাশিয়া। এক সময় যে দেশটি নিষেধাজ্ঞার চাপে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল, এখন তেলের দাম বৃদ্ধির ঢেউয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়ার পর হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন হতো। হঠাৎ সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে তৈরি হয় তীব্র সংকট।

কয়েক মাস আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তুলনামূলক কম ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা দ্রুত বেড়ে গেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু বাজারে চাপ সৃষ্টি করেনি, বরং বিকল্প তেল সরবরাহকারীদের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি করেছে।

অর্থনীতি সামাল দিতে জ্বালানি খাত পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ সিরিয়ায়

রাশিয়ার জন্য অপ্রত্যাশিত স্বস্তি

এই সংকটের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, রপ্তানি সীমাবদ্ধতা এবং বড় ক্রেতাদের দূরে সরে যাওয়ার কারণে দেশটির জ্বালানি খাত একসময় চাপে ছিল।

কিন্তু এখন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের অভাবে রাশিয়ার তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ভারত ও চীনের মতো বড় ক্রেতারা আবারও রুশ তেল আমদানি বাড়িয়েছে। ফলে আগে যেসব তেল বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছিল, এখন সেগুলো সহজেই বাজারে যাচ্ছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাড়ছে রাজস্ব, কমছে চাপ

তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার রাজস্ব আয়ও দ্রুত বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম সামান্য বাড়লেই রাশিয়ার আয়ে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটে। এই অতিরিক্ত অর্থ সরকারের বাজেট ঘাটতি কমাতে সাহায্য করছে এবং অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনছে।

এর ফলে যুদ্ধকালীন ব্যয় মেটানো এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়াও কিছুটা সহজ হয়ে উঠছে।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শিথিল হওয়ার আশঙ্কা

বর্তমান জ্বালানি সংকট পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, আর সেই কারণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা আগের মতো দৃঢ় থাকছে না।

একদিকে জ্বালানির চাহিদা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বাস্তবতা—এই দ্বন্দ্ব পশ্চিমা কৌশলকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এতে করে রাশিয়ার ওপর চাপ কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

China, Russia forged a new paradigm of major-country relations different  from obsolete Cold War approach: Wang Yi - Global Times

চীন-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় চীন বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে স্থলপথে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।

সাময়িক লাভ, দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা

তবে এই ইতিবাচক পরিস্থিতি যে স্থায়ী হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রাশিয়ার তেল উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত, এবং চলমান সংঘাতের কারণে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম | | বাংলাদেশ  প্রতিদিন

অন্যদিকে, তেলের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে বৈশ্বিক চাহিদা কমে যেতে পারে, যা আবার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে বর্তমান সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে।

সংকটের আড়ালে বাস্তবতা

সব মিলিয়ে হরমুজ সংকট রাশিয়ার জন্য এক ধরনের অস্থায়ী স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে এটি গভীর অর্থনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।

বিশ্ব রাজনীতির এই জটিল খেলায় জ্বালানি বাজারের প্রতিটি পরিবর্তন নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, আর সেই সমীকরণেই আপাতত লাভের মুখ দেখছে রাশিয়া।