০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

আফ্রিকার শিল্প বিপ্লবের নায়ক ড্যাংগোটে: তেল শোধনাগার ঘিরে বদলে যাচ্ছে অর্থনীতি

আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়ী আলিকো ড্যাংগোটে এক নতুন শিল্প যুগের দরজা খুলে দিয়েছেন, যেখানে নিজস্ব উৎপাদন ও অবকাঠামো গড়ে তুলে মহাদেশকে আত্মনির্ভর করার লক্ষ্য সামনে এসেছে। নাইজেরিয়ার লাগোসের উপকণ্ঠে গড়ে ওঠা বিশাল তেল শোধনাগার শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়, বরং এটি আফ্রিকার অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার শক্তিশালী ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তেল শোধনাগার ঘিরে অর্থনৈতিক পালাবদল

প্রতিদিন প্রায় ছয় লাখ পঞ্চাশ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা নিয়ে এই শোধনাগার ইতোমধ্যে বৈশ্বিক বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বৈশ্বিক সংকটের সময়েও জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রকল্পের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নাইজেরিয়ার মতো দেশ, যা এতদিন নিজস্ব তেল উৎপাদন করেও জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল, এখন ধীরে ধীরে সেই নির্ভরতা কমাতে পারছে।

Africa's Richest Man Has Ambitious Plans For The Continent - Daily Trust

এই শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশের অ-তেলভিত্তিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি যোগ হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ও বাড়বে। এতে স্থানীয় মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্যবসা থেকে শিল্পে ড্যাংগোটের যাত্রা

ড্যাংগোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল আমদানি ব্যবসা দিয়ে, যেখানে তিনি চিনি, লবণসহ বিভিন্ন পণ্য দেশে এনে বিক্রি করতেন। পরবর্তীতে নীতিগত সহায়তা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি সিমেন্ট উৎপাদনে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকেই তার সাম্রাজ্যের ভিত্তি তৈরি হয়। আজ তার প্রতিষ্ঠান আফ্রিকার অন্যতম লাভজনক শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত

শুধু জ্বালানি নয়, এই প্রকল্প থেকে প্লাস্টিক তৈরির উপকরণ, সার এবং অন্যান্য রাসায়নিক উৎপাদনও হচ্ছে। বছরে প্রায় ত্রিশ লাখ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা এই কারখানাকে কৃষি খাতেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলে এই ধরনের উৎপাদন আফ্রিকার জন্য বড় নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করবে।

মহাদেশজুড়ে বিস্তারের পরিকল্পনা

ড্যাংগোটের পরিকল্পনা শুধু নাইজেরিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। ইতোমধ্যে তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। ইথিওপিয়ায় সার কারখানা, জিম্বাবুয়েতে বিদ্যুৎ ও সিমেন্ট প্রকল্প, জাম্বিয়ায় তামা প্রক্রিয়াজাতকরণ, ঘানা ও আইভরি কোস্টে কোকো শিল্প—সব মিলিয়ে একটি বিস্তৃত শিল্প নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

আত্মনির্ভর আফ্রিকার স্বপ্ন

ড্যাংগোটের মতে, আফ্রিকার উন্নয়ন আফ্রিকানদের হাতেই হতে হবে। বাইরের বিনিয়োগের অপেক্ষায় থাকলে শিল্পায়ন সম্ভব নয়। তবে এই বিশাল প্রকল্পগুলোর পেছনে বিপুল মূলধন ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন, যা অনেক দেশের জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

Taking the Pulse of Africa's Economy

সমালোচনা ও বাস্তবতা

সমালোচকদের মতে, সরকারি নীতি ও সুবিধা ড্যাংগোটের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশি প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির ওপর নির্ভরতা রয়ে গেছে। তবে ড্যাংগোটে এই সমালোচনাকে অস্বীকার করে তার উদ্ভাবন ও সক্ষমতার ওপর জোর দিয়েছেন।

ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

আগামী কয়েক বছরে এই শোধনাগারের আকার ও উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আনার কথাও ভাবা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ড্যাংগোটে এমন এক শিল্প সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন, যা আফ্রিকার অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

আফ্রিকার শিল্প বিপ্লবের নায়ক ড্যাংগোটে: তেল শোধনাগার ঘিরে বদলে যাচ্ছে অর্থনীতি

০৪:০৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়ী আলিকো ড্যাংগোটে এক নতুন শিল্প যুগের দরজা খুলে দিয়েছেন, যেখানে নিজস্ব উৎপাদন ও অবকাঠামো গড়ে তুলে মহাদেশকে আত্মনির্ভর করার লক্ষ্য সামনে এসেছে। নাইজেরিয়ার লাগোসের উপকণ্ঠে গড়ে ওঠা বিশাল তেল শোধনাগার শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়, বরং এটি আফ্রিকার অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার শক্তিশালী ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তেল শোধনাগার ঘিরে অর্থনৈতিক পালাবদল

প্রতিদিন প্রায় ছয় লাখ পঞ্চাশ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা নিয়ে এই শোধনাগার ইতোমধ্যে বৈশ্বিক বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বৈশ্বিক সংকটের সময়েও জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রকল্পের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নাইজেরিয়ার মতো দেশ, যা এতদিন নিজস্ব তেল উৎপাদন করেও জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল, এখন ধীরে ধীরে সেই নির্ভরতা কমাতে পারছে।

Africa's Richest Man Has Ambitious Plans For The Continent - Daily Trust

এই শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশের অ-তেলভিত্তিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি যোগ হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ও বাড়বে। এতে স্থানীয় মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্যবসা থেকে শিল্পে ড্যাংগোটের যাত্রা

ড্যাংগোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল আমদানি ব্যবসা দিয়ে, যেখানে তিনি চিনি, লবণসহ বিভিন্ন পণ্য দেশে এনে বিক্রি করতেন। পরবর্তীতে নীতিগত সহায়তা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি সিমেন্ট উৎপাদনে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকেই তার সাম্রাজ্যের ভিত্তি তৈরি হয়। আজ তার প্রতিষ্ঠান আফ্রিকার অন্যতম লাভজনক শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত

শুধু জ্বালানি নয়, এই প্রকল্প থেকে প্লাস্টিক তৈরির উপকরণ, সার এবং অন্যান্য রাসায়নিক উৎপাদনও হচ্ছে। বছরে প্রায় ত্রিশ লাখ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা এই কারখানাকে কৃষি খাতেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলে এই ধরনের উৎপাদন আফ্রিকার জন্য বড় নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করবে।

মহাদেশজুড়ে বিস্তারের পরিকল্পনা

ড্যাংগোটের পরিকল্পনা শুধু নাইজেরিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। ইতোমধ্যে তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। ইথিওপিয়ায় সার কারখানা, জিম্বাবুয়েতে বিদ্যুৎ ও সিমেন্ট প্রকল্প, জাম্বিয়ায় তামা প্রক্রিয়াজাতকরণ, ঘানা ও আইভরি কোস্টে কোকো শিল্প—সব মিলিয়ে একটি বিস্তৃত শিল্প নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

আত্মনির্ভর আফ্রিকার স্বপ্ন

ড্যাংগোটের মতে, আফ্রিকার উন্নয়ন আফ্রিকানদের হাতেই হতে হবে। বাইরের বিনিয়োগের অপেক্ষায় থাকলে শিল্পায়ন সম্ভব নয়। তবে এই বিশাল প্রকল্পগুলোর পেছনে বিপুল মূলধন ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন, যা অনেক দেশের জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

Taking the Pulse of Africa's Economy

সমালোচনা ও বাস্তবতা

সমালোচকদের মতে, সরকারি নীতি ও সুবিধা ড্যাংগোটের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশি প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির ওপর নির্ভরতা রয়ে গেছে। তবে ড্যাংগোটে এই সমালোচনাকে অস্বীকার করে তার উদ্ভাবন ও সক্ষমতার ওপর জোর দিয়েছেন।

ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

আগামী কয়েক বছরে এই শোধনাগারের আকার ও উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আনার কথাও ভাবা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ড্যাংগোটে এমন এক শিল্প সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন, যা আফ্রিকার অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।