বিশ্বজুড়ে নতুন করে জ্বালানি সংকটের ঢেউ তুলেছে তৃতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধ। দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে তীব্র হয়ে উঠছে। রান্নার গ্যাস থেকে শিল্প উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই দেখা দিচ্ছে চরম চাপ, আর অর্থনীতির ভিত কেঁপে উঠছে একের পর এক দেশে।
জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত দরিদ্র বিশ্ব
যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় অনেক দেশেই দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে পড়ছে। কোথাও গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন, কোথাও জ্বালানি বাঁচাতে সপ্তাহে একদিন শিল্প বন্ধ রাখার নির্দেশ। আবার কোথাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে অনলাইনে পাঠদান চালু করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ইতোমধ্যেই পরিস্থিতিকে “অকল্পনীয়” বলে সতর্ক করেছেন। তবে ইতিহাস বলছে, এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। আগেও দেখা গেছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র দেশগুলোই।
আমদানি নির্ভরতা ও দুর্বল সঞ্চয় বড় ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, যে দেশগুলো জ্বালানি আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং যাদের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় কম, তারাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যায়। একই সময়ে প্রবাসী আয় কমে গেলে অর্থনীতির ওপর দ্বিগুণ চাপ তৈরি হয়।
ফলে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ে, মুদ্রার মান কমে এবং ডলার দিয়ে জ্বালানি কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এই চক্র দ্রুত একটি বড় অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে যেসব দেশ

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু দেশ এই সংকটে বিশেষভাবে বিপদের মুখে। যেসব দেশের জ্বালানি আমদানি বেশি এবং একই সঙ্গে আর্থিক সুরক্ষা কম, তাদের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
কিছু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তিন মাসের আমদানি ব্যয়ও কভার করতে পারে না, যা আন্তর্জাতিক মানের নিচে। আবার কোথাও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের চাপ রয়েছে, যা নতুন সংকট মোকাবিলার ক্ষমতাকে সীমিত করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ রয়েছে। দেশের রিজার্ভ সীমিত এবং শিল্পখাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে রপ্তানি ও আমদানি—দুই দিকেই চাপ বাড়ে।
কিছু দেশের শক্ত অবস্থান

তবে সব দেশ সমানভাবে বিপদে নেই। কিছু দেশ উচ্চ আমদানি নির্ভরতা থাকা সত্ত্বেও শক্তিশালী রিজার্ভ ও কৌশলগত মজুদের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে।
এছাড়া বিকল্প জ্বালানি উৎস ব্যবহার ও বৈচিত্র্যপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা থাকলে সংকটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম পড়ে।
খাদ্য সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে
জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ায় সার উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে, যা সরাসরি খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ২০২৬ সালে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে কোটি কোটি মানুষ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















