মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বের বহু দেশ জ্বালানি সংকটে পড়েছে। এই সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সেই দেশগুলোর ওপর, যারা উপসাগরীয় জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশের অবস্থান
২০২৪ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করেছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে।
বিশ্ববাজারে সরবরাহ ব্যাহত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি খরচ বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতেও চাপ তৈরি হতে পারে।

এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে নির্ভরশীল
পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করে এমন এশিয়ার দেশগুলো হলো পাকিস্তান, জাপান, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, মালদ্বীপ, তাইওয়ান, চীন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ইসরায়েল, ব্রুনেই, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, আর্মেনিয়া, তুরস্ক, হংকং, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, ইয়েমেন, আজারবাইজান, কিরগিজস্তান, জর্ডান, কম্বোডিয়া, সিরিয়া এবং বাংলাদেশ।
এই অঞ্চলে প্রতিদিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ হয়, যার বেশিরভাগই এশিয়ায় যায়। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এই দেশগুলো দ্রুত সংকটে পড়ে।
ইউরোপের দেশগুলোও যুক্ত
পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি আমদানি করা ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রিস, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, সার্বিয়া, বুলগেরিয়া, স্লোভেনিয়া, ইতালি, আলবেনিয়া, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, রোমানিয়া, ডেনমার্ক, ইউক্রেন, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, নরওয়ে, পর্তুগাল, মলদোভা, সাইপ্রাস, বেলজিয়াম, লাটভিয়া, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সুইজারল্যান্ড, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং স্লোভাকিয়া।

যদিও ইউরোপের নির্ভরতা তুলনামূলক কম, তবুও বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়লে এই দেশগুলোর অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ে।
আফ্রিকার দেশগুলোর ঝুঁকি
আফ্রিকার যেসব দেশ উপসাগরীয় জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের মধ্যে রয়েছে সেশেলস, মৌরিতানিয়া, উগান্ডা, মরিশাস, কেনিয়া, মিশর, জাম্বিয়া, নামিবিয়া, মালাউই, দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া, মরক্কো, মোজাম্বিক, মাদাগাস্কার, জিম্বাবুয়ে, সেনেগাল, নাইজেরিয়া, বেনিন, অ্যাঙ্গোলা, বুরকিনা ফাসো, তিউনিসিয়া, আইভরি কোস্ট, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, গাম্বিয়া, নাইজার, লেসোথো, ক্যামেরুন এবং লিবিয়া।
এই দেশগুলোর অনেকেই সার উৎপাদনের জন্যও উপসাগরীয় জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, ফলে কৃষি খাতেও সংকট দেখা দিতে পারে।
আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চল
আমেরিকা অঞ্চলের যেসব দেশ পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি আমদানি করে, তাদের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, কানাডা, উরুগুয়ে, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, গুয়াতেমালা, চিলি, পেরু, হন্ডুরাস, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, এল সালভাদর, কোস্টারিকা, মেক্সিকো, বেলিজ, বলিভিয়া, নিকারাগুয়া এবং বার্বাডোস। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ফিজি ও নিউজিল্যান্ডও এই তালিকায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বড় তেল উৎপাদক হওয়ায় তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
বৈশ্বিক প্রভাব
যুদ্ধের কারণে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেলে শুধু জ্বালানি নয়, পরিবহন, খাদ্য এবং শিল্প উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এর চাপ বেশি অনুভূত হয়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তেলের দাম আরও বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















