১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় সংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ সরাসরি পাকিস্তানের যুদ্ধ না হলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব দেশটির জন্য ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। জ্বালানি ও খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান এমন এক সময়ে এই সংকটের মুখে পড়েছে, যখন অর্থনীতি ইতোমধ্যেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

জ্বালানি দামের চাপ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি

পাকিস্তান তার অধিকাংশ জ্বালানি আমদানি করে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেল, গ্যাস ও সার—সব কিছুর দাম বাড়বে, যা পরিবহন ও খাদ্য খরচ বাড়িয়ে দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকে, তাহলে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

ডলারের দাম বেড়ে ৯২ টাকা

বৈদেশিক মুদ্রা ও রেমিট্যান্সে চাপ

পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ খুবই সীমিত, যা তিন মাসের আমদানি খরচেরও কম। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আসা রেমিট্যান্সের ওপর দেশটি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

যদি মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক ধীরগতি দেখা দেয়, তাহলে রেমিট্যান্স কমে যেতে পারে, যা বৈদেশিক খাতে বড় চাপ সৃষ্টি করবে।

ঋণের বোঝা ও সীমিত নীতিগত সুযোগ

দেশটির সরকারি ঋণ জিডিপির ৭০ শতাংশের বেশি, যা অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। উচ্চ ঋণ পরিশোধের কারণে সরকার সামাজিক খাতে ব্যয় বাড়াতে পারছে না, ফলে সংকট মোকাবিলার সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র কৃচ্ছ্রসাধন নীতি (austerity) যথেষ্ট হবে না। বরং এটি অর্থনৈতিক মন্দা আরও গভীর করতে পারে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো

সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পাকিস্তানে দ্রুত মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পতন ঘটতে পারে। এমনকি সামাজিক অস্থিরতাও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানকে দ্রুত বিকল্প নীতি গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা, বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়ানো এবং ঋণ পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে জ্বালানি ও খাদ্য আমদানির চাপ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় সংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা

০৮:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ সরাসরি পাকিস্তানের যুদ্ধ না হলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব দেশটির জন্য ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। জ্বালানি ও খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান এমন এক সময়ে এই সংকটের মুখে পড়েছে, যখন অর্থনীতি ইতোমধ্যেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

জ্বালানি দামের চাপ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি

পাকিস্তান তার অধিকাংশ জ্বালানি আমদানি করে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেল, গ্যাস ও সার—সব কিছুর দাম বাড়বে, যা পরিবহন ও খাদ্য খরচ বাড়িয়ে দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকে, তাহলে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

ডলারের দাম বেড়ে ৯২ টাকা

বৈদেশিক মুদ্রা ও রেমিট্যান্সে চাপ

পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ খুবই সীমিত, যা তিন মাসের আমদানি খরচেরও কম। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আসা রেমিট্যান্সের ওপর দেশটি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

যদি মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক ধীরগতি দেখা দেয়, তাহলে রেমিট্যান্স কমে যেতে পারে, যা বৈদেশিক খাতে বড় চাপ সৃষ্টি করবে।

ঋণের বোঝা ও সীমিত নীতিগত সুযোগ

দেশটির সরকারি ঋণ জিডিপির ৭০ শতাংশের বেশি, যা অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। উচ্চ ঋণ পরিশোধের কারণে সরকার সামাজিক খাতে ব্যয় বাড়াতে পারছে না, ফলে সংকট মোকাবিলার সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র কৃচ্ছ্রসাধন নীতি (austerity) যথেষ্ট হবে না। বরং এটি অর্থনৈতিক মন্দা আরও গভীর করতে পারে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো

সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পাকিস্তানে দ্রুত মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পতন ঘটতে পারে। এমনকি সামাজিক অস্থিরতাও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানকে দ্রুত বিকল্প নীতি গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা, বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়ানো এবং ঋণ পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে জ্বালানি ও খাদ্য আমদানির চাপ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।