ইউক্রেনকে দেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশাল ঋণ প্যাকেজ এখন হাঙ্গেরির রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই ইস্যুকে সামনে এনে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করছেন, যা ইউরোপীয় ঐক্য ও ইউক্রেন সহায়তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
নির্বাচনী প্রচারে ইউক্রেন ইস্যু
বুদাপেস্টজুড়ে বিলবোর্ডে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে লক্ষ্য করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে তাকে দেখিয়ে বলা হচ্ছে—“আমরা টাকা দেব না।”
বিশ্লেষকদের মতে, অরবান এই ইস্যু ব্যবহার করে ভোটারদের সমর্থন টানার চেষ্টা করছেন, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে।
![]()
৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ আটকে দিয়েছে হাঙ্গেরি
ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরোর একটি ঋণ দিতে চায়। কিন্তু হাঙ্গেরি এই প্রস্তাব আটকে দিয়েছে।
অরবানের দাবি, ইউক্রেনকে ‘দ্রুজবা’ তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে হবে, যা হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় রুশ তেল সরবরাহ করে।
পাইপলাইন সংকট ও দ্বন্দ্ব
পাইপলাইনটি সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাঙ্গেরির জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অরবান ইউক্রেনকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, পাইপলাইন মেরামত করা সম্ভব হলেও তা করতে সময় লাগবে এবং তিনি এটিকে রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছেন।
উত্তেজনা বাড়াচ্ছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
দুই নেতার মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অরবান ইউক্রেনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে জেলেনস্কি হাঙ্গেরির অবস্থানকে রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ইউরোপীয় ঐক্যে চাপ
:max_bytes(150000):strip_icc()/GettyImages-126363856-59c67c1aaad52b0011324376.jpg)
এই পরিস্থিতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে বিভক্তি তৈরি করছে। ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে সব সদস্য দেশের সম্মতি প্রয়োজন, ফলে হাঙ্গেরির আপত্তি পুরো প্রক্রিয়াকে আটকে দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
বিশ্লেষকদের মতে, হাঙ্গেরির নির্বাচনের ফলাফলের ওপর এই ইস্যুর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। ইউক্রেনের জন্য জরুরি এই সহায়তা বিলম্বিত হলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















