বৈশ্বিক তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির চাপ সামাল দিতে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে পাকিস্তান সরকার। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকারি যানবাহনে উচ্চমানের জ্বালানি ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এর আগে এই জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণাও দেওয়া হয়।
সরকারি গাড়িতে কড়াকড়ি নির্দেশনা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে কোনো সরকারি গাড়িতে উচ্চমানের জ্বালানি ব্যবহার করা যাবে না। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজনে নিজের পকেট থেকেই ওই জ্বালানির খরচ বহন করতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব ও জ্বালানি সংকট
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। এর প্রভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর জোর দিয়ে সরকার একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিলাসবহুল গাড়ির জ্বালানিতে বাড়তি শুল্ক
সরকার ইতোমধ্যে বিলাসবহুল গাড়িতে ব্যবহৃত উচ্চমানের জ্বালানির ওপর প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ২০০ টাকা শুল্ক আরোপ করেছে। ফলে মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৩০০ টাকা। তবে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত জ্বালানির দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, যাতে গণপরিবহন বা বিমান ভাড়ায় চাপ না পড়ে।
অর্থ সাশ্রয় ও জনসাধারণের স্বস্তি
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি মাসে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, এই অর্থ জনগণের স্বস্তি দিতে ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে ধনী শ্রেণির ওপর বেশি চাপ দিয়ে অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আগের কৃচ্ছ্রসাধন পদক্ষেপ
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এর আগে সরকার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, সরকারি গাড়ির জ্বালানি ভাতা অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মীদের একটি অংশকে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
জনগণের প্রতি আহ্বান
সরকার জনগণকেও জ্বালানি সাশ্রয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট এড়ানো যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















