বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন মোড়। যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটের চাপে এবার ব্রেন্টের চেয়েও বেশি দামে ভারতের কাছে ইরানি তেল অফার করা হয়েছে। দীর্ঘ সাত বছর পর আবারও ইরানের দিকে ঝুঁকছে ভারতের পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো, যা বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে।
সংকটেই সুযোগ, ইরানের দিকে ভারতের ঝোঁক
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। ফলে ভারতের মতো বড় আমদানিকারক দেশ তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় দ্রুত সরবরাহের সুবিধা দিচ্ছে। ফলে ভারতের শোধনাগারগুলো ইরানি তেল ও রান্নার গ্যাস কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।
২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এতদিন মার্কিন চাপের কারণে ভারত ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল।

ব্রেন্টের চেয়েও বেশি দামে অফার
বাজার সূত্রে জানা গেছে, ইরানি তেল প্রতি ব্যারেলে ব্রেন্টের চেয়ে ৬ থেকে ৮ ডলার বেশি দামে অফার করা হয়েছে। সাধারণত সংকটের সময় কম দামে বিক্রির প্রবণতা থাকলেও এবার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা বাজারে অস্বাভাবিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এতে বোঝা যাচ্ছে, সরবরাহ ঘাটতি এতটাই তীব্র যে ক্রেতারা বাড়তি দাম দিয়েও তেল সংগ্রহে রাজি।
ডলার বা রুপিতে পরিশোধের প্রস্তাব
লেনদেনের ক্ষেত্রেও নমনীয়তা দেখাচ্ছে ইরান। ব্যবসায়ীরা ডলারের পাশাপাশি ভারতীয় রুপিতেও মূল্য পরিশোধ গ্রহণ করতে রাজি। যদিও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার বাইরে থাকায় চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে ভারতীয় কোম্পানিগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সময় সীমিত, দ্রুত সিদ্ধান্তের চাপ
মার্কিন প্রশাসন সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় মাত্র এক মাস সময় পেয়েছে ভারত। এই সময়ের মধ্যে সমুদ্রে থাকা তেল কিনে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট ১৯৭০-এর দশকের তেল ধাক্কার চেয়েও বড় আকার ধারণ করেছে।
জ্বালানি রাজনীতির নতুন সমীকরণ
ভারতের এই পদক্ষেপ শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতও। রাশিয়ার তেলের পর এবার ইরানের দিকে ঝুঁকে ভারত বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন বার্তা দিচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে জ্বালানি বাণিজ্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















