মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
উত্তেজনায় বাজারে দামের লাফ
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারের উপরে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও বেড়ে প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।
এর আগে সোমবার দাম ১০ শতাংশের বেশি কমে গেলেও, নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বে অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। তবে ইরান সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে এবং কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছে। এই বিপরীত অবস্থান বাজারে বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাময়িকভাবে হামলা স্থগিত থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থির। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ না হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ঝুঁকি রয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে সবচেয়ে বড় সংকট
বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান সংঘাতের কারণে এই রুট প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, যা ইতিহাসের অন্যতম বড় সরবরাহ বিঘ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে, এপ্রিল পর্যন্ত এই পথ বন্ধ থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা অতীতের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে।

জ্বালানি স্থাপনাগুলিতে হামলা বাড়ছে
ইরানের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
বাজারে সতর্ক অবস্থান
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সংঘাতের ঝুঁকি ও প্রতিদিনের নতুন খবর বাজারকে অস্থির করে তুলছে। তাই এখনই তেলের দাম কমার সম্ভাবনায় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















