জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পরিবেশ রক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ দশকের পুরোনো পদ্ধতি বদলে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে তারা কার্বন নিঃসরণ কমানোর পথে এগোচ্ছে।
ঐতিহ্য থেকে পরিবর্তনের পথে
ওকিনাওয়ার এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৪ সাল থেকে একই পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন করে আসছিল। সমুদ্রের পানিকে উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপের মাধ্যমে ফুটিয়ে লবণ তৈরি করা হয়, যেখানে কয়লাভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার অত্যন্ত বেশি। ফলে এই শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয়ে আসছে।
কার্বন কমানোর নতুন প্রযুক্তি
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নতুন কারখানা নির্মাণ করে ভ্যাকুয়াম পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে বর্জ্য তাপ পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব, যার ফলে তাপশক্তি ব্যবহারে প্রায় ৯৭ শতাংশ সাশ্রয় হবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমবে প্রায় ২৫ শতাংশ।
উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা
নতুন প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বার্ষিক উৎপাদন ৬০০ টন থেকে বাড়িয়ে ১০০০ থেকে ১২০০ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চাহিদা কমলেও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
জাপানে লবণের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগে চাপ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে লবণের ব্যবহারও কমেছে। তবুও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাওয়াকে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য মনে করছে।
স্বাদে পরিবর্তন নয়, টেক্সচারে সামান্য পার্থক্য
নতুন পদ্ধতিতে উৎপাদিত লবণের খনিজ গঠন অপরিবর্তিত থাকলেও এর গঠন ও স্পর্শে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে পরীক্ষায় দেখা গেছে স্বাদের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
টেকসই ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত
বর্তমানে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা গ্রহণের চাপ বাড়ছে। এই প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে কার্বন নির্গমন পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
পরিবর্তনই টিকে থাকার পথ
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মনে করেন, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনই টিকে থাকার একমাত্র উপায়। তাই ঐতিহ্য ধরে রেখেও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করে তারা একটি নতুন যাত্রা শুরু করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















