হঠাৎ করেই দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ব্যবহৃত জেট জ্বালানির দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে দেশের বিমান শিল্পে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং যাত্রীদের খরচ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জরুরি বৈঠকে দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এক জরুরি বৈঠকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও লিটারপ্রতি দাম ০.৭৩৮৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মার্চ মাসের নির্দিষ্ট সময়ের আন্তর্জাতিক বাজারের গড় মূল্য, সংশোধিত প্রিমিয়াম, ডলারের বিনিময় হার এবং অপরিবর্তিত ডিজেল মূল্যের ভিত্তিতে।

বিমান অপারেটরদের তীব্র উদ্বেগ
বাংলাদেশের বিমান অপারেটরদের সংগঠন এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের বিমান খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জানান, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং আগের নির্ধারিত দামে জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতির দিকেই রয়েছে।
এই অবস্থায় ভবিষ্যৎ আশঙ্কার ভিত্তিতে এত বড় মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক নয় বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বড় বৃদ্ধি
প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এই মূল্যবৃদ্ধি অনেক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে ভারত ও নেপাল জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রেখেছে, সেখানে পাকিস্তানে প্রায় ২৪ শতাংশ এবং মালদ্বীপে প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশে তা প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে।

যাত্রী ভাড়া ও ফ্লাইট পরিচালনায় প্রভাব
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিমান সংস্থাগুলোর ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীদের ভাড়া বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জেট জ্বালানির ওপর উচ্চ কর অপারেশনাল খরচ আরও বাড়াবে, যা বিমান খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করবে।
পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাহত হওয়ার বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান
বিমান অপারেটরদের সংগঠন সরকারকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা না হলে দেশের বিমান শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















