বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়তে থাকায় জ্বালানি বাণিজ্যের কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন থেকে দূরবর্তী বাজারের বদলে সীমান্তঘেঁষা প্রতিবেশী দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেটিই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
বৈশ্বিক অস্থিরতায় সরবরাহ ব্যবস্থার নতুন ভাবনা
রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী সের্গেই সিভিলেভ বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে প্রতিটি দেশকে তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল নতুন করে মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
রাশিয়ার রপ্তানি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও ঝুঁকি এড়াতে তারা কৌশল বদলাচ্ছে। স্থলসীমান্ত ভাগ করে নেওয়া দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহকে এখন বেশি নিরাপদ মনে করছে মস্কো। একই সঙ্গে তেল পরিবহনের পদ্ধতিও পুনর্বিবেচনার কথা জানিয়েছে দেশটি।
ইউরোপ থেকে মুখ ফিরিয়ে এশিয়ায় ঝুঁকছে মস্কো
দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ ছিল রাশিয়ার প্রধান ভিত্তি। এমনকি ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ও এই সরবরাহ অব্যাহত ছিল। কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলো বাজারভিত্তিক দামের ওপর জোর দেওয়ায় দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ যখন রুশ তেল-গ্যাস আমদানি কমানোর ঘোষণা দেয়, তখন থেকেই সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। মস্কো এখন ইউরোপকে অনির্ভরযোগ্য ক্রেতা হিসেবে দেখছে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘুরে যাচ্ছে এশিয়ার দিকে, বিশেষ করে চীনের দিকে।
নতুন জ্বালানি চুক্তিতে এশিয়ার গুরুত্ব বাড়ছে
চীনের সঙ্গে নতুন গ্যাস পাইপলাইন চুক্তি কার্যত ইউরোপকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সরবরাহের পথ খুলে গেছে, যা ভবিষ্যতে রাশিয়ার প্রধান রপ্তানি রুট হয়ে উঠতে পারে।
একই সময় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছে। সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনে নতুন কৌশলও গ্রহণ করা হয়েছে, যদিও এই প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে।

নতুন ক্রেতাদের আগমন
রাশিয়ার তেলের নতুন ক্রেতাদের তালিকায় দ্রুতই যোগ হচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো। ভারত ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ রুশ তেলের অর্ডার দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে কেনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন পর ফিলিপাইনও রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি শুরু করেছে। পূর্ব সাইবেরিয়া থেকে সরবরাহ করা এই তেল দেশটির স্থানীয় পরিশোধনাগারে ব্যবহার করা হবে।
জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন ‘প্রতিবেশী আগে’ নীতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দীর্ঘ দূরত্বের সরবরাহের বদলে আঞ্চলিক জোট ও কাছাকাছি দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়বে। এতে ইউরোপের প্রভাব কমে গিয়ে এশিয়ার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















