ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতে, যেখানে গ্যাসের ঘাটতি দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট ভারতের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা—গ্যাস সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব—স্পষ্টভাবে সামনে এনে দিয়েছে।
গ্যাস মজুদ না থাকায় বাড়ছে ঝুঁকি
ভারতের জ্বালানি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণের মতো কার্যকর কোনও কাঠামো নেই। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হলেই পরিস্থিতি দ্রুত সংকটজনক হয়ে ওঠে।

তাদের মতে, তেল ও গ্যাসের মজুদ বাড়াতে এখনই কার্যকর নীতি গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে দেশটি। যদিও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে, তবু সরকারি নিশ্চয়তা না থাকায় বড় প্রকল্পে এগোতে অনীহা রয়েছে উন্নয়নকারীদের।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সরাসরি প্রভাব
ইরানকে ঘিরে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অথচ এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে ভারতসহ অনেক দেশেই জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
ভারত তার আমদানিকৃত গ্যাসের একটি বড় অংশ কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এই পথেই নিয়ে আসে। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

শিল্প উৎপাদনেও ধাক্কা
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সার কারখানাগুলোতে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়া উৎপাদনে গ্যাসের ভূমিকা বড় হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এদিকে সরকার দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে এবং নতুন পাইপলাইন নির্মাণ ও সম্প্রসারণে গতি আনতে নির্দেশ দিয়েছে।
জ্বালানি ব্যবস্থায় কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা
ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের অবদান এখনও খুবই কম। দেশটি মূলত কয়লার ওপর নির্ভরশীল এবং গ্যাসের ব্যবহার সীমিত। ফলে সংকটের সময় বিকল্প জ্বালানির ওপর চাপ বেড়ে যায়।

সরকার সৌরশক্তি ও ব্যাটারি সংরক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ালেও, তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে গ্রীষ্মকালে কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে গ্যাসের চাহিদা ও বাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। দাম দীর্ঘদিন বেশি থাকলে অনেক দেশ বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকবে, যা ভবিষ্যতে গ্যাসের বৈশ্বিক চাহিদায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















