মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটের মধ্যেই রাশিয়া থেকে আসা একটি বড় তেলের চালান ফিলিপাইনে পৌঁছেছে, যা দেশটির স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি মজুত কিছুটা বাড়াতে সহায়তা করবে।
রাশিয়ান তেলের চালান পৌঁছাল
একটি সূত্র জানিয়েছে, ৭ লাখ ব্যারেলের বেশি রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল বহনকারী ‘সারা স্কাই’ নামের জাহাজটি সোমবার ফিলিপাইনে পৌঁছায়। সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী এই জাহাজটি রাশিয়ার ইএসপিও পাইপলাইন থেকে উচ্চমানের তেল নিয়ে আসে।
জাহাজটির তেলের ক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পেট্রন কর্পোরেশনকে, যা দেশটির একমাত্র তেল শোধনাগার পরিচালনা করে। সূত্রটি পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানায়।
কতটা প্রভাব ফেলবে এই চালান
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইন প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ব্যারেল তেল ব্যবহার করে। সেই হিসাবে এই চালান দেশটির জ্বালানি চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত, যা মোটামুটি দুই দিনেরও কম সময়ের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।
বিকল্প উৎস খুঁজছে ফিলিপাইন
ফিলিপাইন আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীর আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন, সরকার প্রচলিত সরবরাহকারীদের পাশাপাশি নতুন উৎসও খুঁজছে। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধের প্রভাবমুক্ত এমন সব উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে এবং কোনো বিকল্পই বাদ দেওয়া হচ্ছে না।
পাঁচ বছরে প্রথম রাশিয়ান তেল
রাজধানী ম্যানিলার কাছে লিমায় বন্দরে জাহাজটিকে নোঙর করতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম রাশিয়ান তেলের চালান যা ফিলিপাইনে এসেছে।
এর আগে পেট্রনের প্রধান নির্বাহী র্যামন অ্যাং জানিয়েছিলেন, রাশিয়ান তেল কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে, যদিও তিনি এ চালান পৌঁছানোর বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত করেননি।

জরুরি তহবিল ও জ্বালানি পরিকল্পনা
দেশটির জ্বালানি বিভাগ ২০ বিলিয়ন পেসোর একটি জরুরি তহবিল সক্রিয় করেছে, যা জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, বর্তমান মজুত মাত্র ৪৫ দিনের জন্য যথেষ্ট। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি উৎস এবং সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কয়লা ও এলএনজি নির্ভরতা বাড়ছে
যুদ্ধের কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আপাতত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে দেশটি। এতে পরিবেশগত প্রভাব বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে, কারণ এসব জ্বালানি থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ বেশি হয়।

কয়লা আমদানিতে কোনো বাধা নেই
জ্বালানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রধান কয়লা সরবরাহকারী ইন্দোনেশিয়া ফিলিপাইনের জন্য আমদানির ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করেনি। প্রয়োজনে দেশটি সহজেই কয়লার আমদানি বাড়াতে পারবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















