০৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
ভারত কেন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বেছে নেয় ভারত কেন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের নেতৃত্বে বাঘের গালিবাফ, কে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও খারগ দ্বীপ নিয়ে নিতে পারে: ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানে নাগরিকত্ব পেতে এখন ১০ বছর বসবাস বাধ্যতামূলক, কর নথিতেও কঠোরতা রেস্তোরাঁ খাতে বিদেশি কর্মী বন্ধে জাপানের সিদ্ধান্তে আতঙ্ক, শ্রম সংকটে টালমাটাল খাদ্যসেবা শিল্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও ছড়াচ্ছে, ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে হামলা, মার্কিন সেনা মোতায়েন জোরদার উত্তর কোরিয়ার ‘চিরশত্রু’ তত্ত্বে নতুন উত্তেজনা, বাস্তবতায় কতটা টিকবে কিমের কৌশল? চিংড়ি চাষে বিপ্লব: আগেই রোগ শনাক্ত করে লাখো টাকা বাঁচাচ্ছে নতুন প্রযুক্তি কারাচিতে ২৪ দিনেই বছরের সমান কার্গো, ইরান উত্তেজনায় বদলে গেল সমুদ্র বাণিজ্যের চিত্র

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবটের ঝুঁকি বাড়ছে, ব্যবহারকারীর সুরক্ষায় বাধ্যতামূলক নজরদারির দাবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠলেও, এর ঝুঁকিও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এসব চ্যাটবটের মাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বাড়ছে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন নিয়ম-কানুন চালুর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ক্ষতিকর কনটেন্ট ও আত্মহত্যা প্রবণতার উদ্বেগ

সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের আত্মহত্যার চিন্তাকে সমর্থন করছে কিংবা সহিংস ও অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আচরণ সরাসরি মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় একটি চ্যাটবটের ভূমিকা নিয়ে মামলা পর্যন্ত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে গবেষকরা বলছেন, চ্যাটবট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সহজে রিপোর্ট করতে পারেন।

Bigger AI chatbots more inclined to spew nonsense — and people don't always  realize

নতুন আইন ও নীতিমালার প্রস্তাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার চাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো একটি রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করতে পারে, যেখানে ব্যবহারকারীরা ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত চিহ্নিত করতে পারবেন। পাশাপাশি চ্যাটবট কীভাবে সংবেদনশীল বিষয়গুলো সামলায়, তা নিয়ে প্রতিবছর স্বচ্ছ প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি উঠেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ইতোমধ্যে এ ধরনের আইন চালু হয়েছে, যেখানে চ্যাটবট কোম্পানিগুলোকে আত্মহত্যা-সংক্রান্ত ঝুঁকি ও প্রতিকার নিয়ে বার্ষিক রিপোর্ট দিতে হয়। একই ধরনের আইন অন্যান্য দেশেও চালুর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘ কথোপকথনেও ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথন করলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে ব্যবহারকারীরা ধীরে ধীরে চ্যাটবটের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেন এবং ভুল বা বিপজ্জনক ধারণা গ্রহণ করতে পারেন।

শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—দুই পক্ষই ঝুঁকিতে

AI psychosis: Why are chatbots making people lose their grip on reality?

অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করলেও তা পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ ব্যবহারকারীরা সহজেই এই ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু শিশু নয়, প্রাপ্তবয়স্করাও এই প্রযুক্তির ঝুঁকিতে পড়ছেন।

তারা মনে করেন, প্রযুক্তির মধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, শুধু প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ করলেই হবে না।

মানসিক ও সামাজিক প্রভাব

চ্যাটবটের একটি বড় সমস্যা হলো এটি ব্যবহারকারীর সব কথায় সম্মতি দেয়। এই প্রবণতা ব্যবহারকারীর ভুল ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এতে মানুষের সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং একাকীত্ব বাড়তে পারে।

সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রযুক্তিগত সমাধান নয়, ব্যবহারকারীদের সচেতন করাও জরুরি। চ্যাটবটের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে, যাতে তারা অন্ধভাবে এসব প্রযুক্তির উপর নির্ভর না করেন।

AI chatbots upended their lives. Then they turned to each other : Consider  This from NPR : NPR

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত কেন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বেছে নেয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবটের ঝুঁকি বাড়ছে, ব্যবহারকারীর সুরক্ষায় বাধ্যতামূলক নজরদারির দাবি

১০:৩৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠলেও, এর ঝুঁকিও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এসব চ্যাটবটের মাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বাড়ছে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন নিয়ম-কানুন চালুর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ক্ষতিকর কনটেন্ট ও আত্মহত্যা প্রবণতার উদ্বেগ

সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের আত্মহত্যার চিন্তাকে সমর্থন করছে কিংবা সহিংস ও অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আচরণ সরাসরি মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় একটি চ্যাটবটের ভূমিকা নিয়ে মামলা পর্যন্ত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে গবেষকরা বলছেন, চ্যাটবট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সহজে রিপোর্ট করতে পারেন।

Bigger AI chatbots more inclined to spew nonsense — and people don't always  realize

নতুন আইন ও নীতিমালার প্রস্তাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার চাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো একটি রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করতে পারে, যেখানে ব্যবহারকারীরা ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত চিহ্নিত করতে পারবেন। পাশাপাশি চ্যাটবট কীভাবে সংবেদনশীল বিষয়গুলো সামলায়, তা নিয়ে প্রতিবছর স্বচ্ছ প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি উঠেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ইতোমধ্যে এ ধরনের আইন চালু হয়েছে, যেখানে চ্যাটবট কোম্পানিগুলোকে আত্মহত্যা-সংক্রান্ত ঝুঁকি ও প্রতিকার নিয়ে বার্ষিক রিপোর্ট দিতে হয়। একই ধরনের আইন অন্যান্য দেশেও চালুর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘ কথোপকথনেও ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথন করলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে ব্যবহারকারীরা ধীরে ধীরে চ্যাটবটের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেন এবং ভুল বা বিপজ্জনক ধারণা গ্রহণ করতে পারেন।

শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—দুই পক্ষই ঝুঁকিতে

AI psychosis: Why are chatbots making people lose their grip on reality?

অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করলেও তা পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ ব্যবহারকারীরা সহজেই এই ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু শিশু নয়, প্রাপ্তবয়স্করাও এই প্রযুক্তির ঝুঁকিতে পড়ছেন।

তারা মনে করেন, প্রযুক্তির মধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, শুধু প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ করলেই হবে না।

মানসিক ও সামাজিক প্রভাব

চ্যাটবটের একটি বড় সমস্যা হলো এটি ব্যবহারকারীর সব কথায় সম্মতি দেয়। এই প্রবণতা ব্যবহারকারীর ভুল ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এতে মানুষের সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং একাকীত্ব বাড়তে পারে।

সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রযুক্তিগত সমাধান নয়, ব্যবহারকারীদের সচেতন করাও জরুরি। চ্যাটবটের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে, যাতে তারা অন্ধভাবে এসব প্রযুক্তির উপর নির্ভর না করেন।

AI chatbots upended their lives. Then they turned to each other : Consider  This from NPR : NPR