যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের পূর্ণ চিত্র
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১,৯৩৭ জন নিহত এবং ২৪,৮০০-র বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৪,০০০ নারী এবং ১,৬২১ শিশু। মার্কিনপন্থী মানবাধিকার সংস্থা হরানা জানিয়েছে সামরিক হতাহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি, তবে ইরান সরকার সেই তথ্য প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ২৭ মার্চ পর্যন্ত ইরানের অন্তত ১২০টি ঐতিহাসিক স্থাপনায় ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরানে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি স্টেডিয়াম, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্র এবং বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বিদ্যালয়ে হামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার এবং ফলাফল প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিয়েছে এবং কেবল সরকার অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা নেট ব্যবহার করতে পারছেন।

যুদ্ধের মানবিক প্রভাব কেবল ইরানে সীমাবদ্ধ নেই। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৩ মার্চ থেকে ১,১৪২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২১ শিশু এবং ৪২ জন স্বাস্থ্যকর্মী। জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে লেবাননে বাস্তুচ্যুত নারীরা নিজেরা না খেয়ে সন্তানদের খাওয়াচ্ছেন। ইরাকে ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র চার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।
ইরান, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চল মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়েছে বলে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে। এই মৃত্যুমিছিলের বাইরে রয়েছেন অসংখ্য অভিবাসী শ্রমিক, যাদের অনেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে গিয়েছিলেন জীবিকার সন্ধানে। কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহতদের মধ্যে এশীয় অভিবাসী শ্রমিক বেশি। বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি নিহতের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি, তবে ওই অঞ্চলে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















