০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি? নেপালের মরদেহ শনাক্ত সংকট: এখনো নিখোঁজ ২,৪২৬ জন; ৫১৭ বিদেশি নাগরিক রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র, ৪০-৫০ টাকার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা রংপুরে অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা, নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধারে অভিযান ঢাকার যানজট কমাতে ৪ মাসের সময়সীমা, করওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার যাবে গাবতলীতে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই মানুন ৫টি সহজ অভ্যাস নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধ, মারধরের পর যুবদল নেতার মৃত্যু একই দিনে মনপুরার ৩ শিশু নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, লড়াই হবে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় নিখোঁজ বন্ধু, ভেসে গেল গ্ল্যান্সির পরিচিত গ্রাম

ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে নিষিদ্ধ: ফিলিপাইনের মুসলিম অঞ্চলে ঐতিহাসিক ফতোয়া

ফিলিপাইনের মুসলিম অধ্যুষিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল মুসলিম মিন্দানাওয়ে ধর্ষণের শিকার নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক ধর্মীয় ফতোয়ায় এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে অঞ্চলের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পরামর্শদাতা সংস্থা।

ফতোয়ায় স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা

বাংলাসামোরো দারুল ইফতা নামে পরিচিত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভুক্তভোগীর সম্মতি ছাড়া ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ নয়। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এই ফতোয়া জারি হলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে আসে। সংস্থাটি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।

দ্বিগুণ যন্ত্রণা থেকে মুক্তির বার্তা

ফতোয়ায় বলা হয়েছে, এমন বিয়ে নারীর ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি করে। প্রথমত, ধর্ষণের মানসিক ও শারীরিক ক্ষত; দ্বিতীয়ত, একই অপরাধীর সঙ্গে আজীবন দাম্পত্য বন্ধনে আবদ্ধ থাকার যন্ত্রণা। এটি নারীর জন্য অত্যন্ত অসহনীয় এক বাস্তবতা তৈরি করে, যা মানবিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও অগ্রহণযোগ্য।

Oxfam Pilipinas hails Bangsamoro fatwa on forced marriage involving rape  victim and abuser

প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

ফিলিপাইনের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের বিয়ে সামাজিকভাবে প্রচলিত ছিল। অনেক ক্ষেত্রে এটি পরিবারের সম্মান রক্ষার উপায় হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে নতুন এই ফতোয়া সেই ধারণাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে এবং নারীর মর্যাদা ও অধিকারকে প্রাধান্য দিয়েছে।

পরিসংখ্যানে ধর্ষণ ও নীরবতার সংস্কৃতি

দেশটির পুলিশ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ধর্ষণের ঘটনা ছিল সাত হাজার ছয়শোর বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মুসলিম অঞ্চলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রকৃত সংখ্যা অনেক সময় প্রকাশ পায় না। সামাজিক চাপে অনেক ঘটনা গোপন থেকে যায়, যা ‘নীরবতার সংস্কৃতি’কে আরও শক্তিশালী করে।

আন্তর্জাতিক প্রশংসা ও মানবাধিকার বার্তা

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার স্থানীয় শাখা এই ফতোয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি নারী ও কিশোরীদের মৌলিক অধিকারকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে এবং যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করার বার্তাও দিয়েছে এই সিদ্ধান্ত।

এই ফতোয়া শুধু একটি ধর্মীয় নির্দেশনা নয়, বরং নারীর মর্যাদা রক্ষায় একটি শক্তিশালী সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা বলেই মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি?

ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে নিষিদ্ধ: ফিলিপাইনের মুসলিম অঞ্চলে ঐতিহাসিক ফতোয়া

০৪:০১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ফিলিপাইনের মুসলিম অধ্যুষিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল মুসলিম মিন্দানাওয়ে ধর্ষণের শিকার নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক ধর্মীয় ফতোয়ায় এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে অঞ্চলের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পরামর্শদাতা সংস্থা।

ফতোয়ায় স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা

বাংলাসামোরো দারুল ইফতা নামে পরিচিত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভুক্তভোগীর সম্মতি ছাড়া ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ নয়। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এই ফতোয়া জারি হলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে আসে। সংস্থাটি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।

দ্বিগুণ যন্ত্রণা থেকে মুক্তির বার্তা

ফতোয়ায় বলা হয়েছে, এমন বিয়ে নারীর ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি করে। প্রথমত, ধর্ষণের মানসিক ও শারীরিক ক্ষত; দ্বিতীয়ত, একই অপরাধীর সঙ্গে আজীবন দাম্পত্য বন্ধনে আবদ্ধ থাকার যন্ত্রণা। এটি নারীর জন্য অত্যন্ত অসহনীয় এক বাস্তবতা তৈরি করে, যা মানবিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও অগ্রহণযোগ্য।

Oxfam Pilipinas hails Bangsamoro fatwa on forced marriage involving rape  victim and abuser

প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

ফিলিপাইনের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের বিয়ে সামাজিকভাবে প্রচলিত ছিল। অনেক ক্ষেত্রে এটি পরিবারের সম্মান রক্ষার উপায় হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে নতুন এই ফতোয়া সেই ধারণাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে এবং নারীর মর্যাদা ও অধিকারকে প্রাধান্য দিয়েছে।

পরিসংখ্যানে ধর্ষণ ও নীরবতার সংস্কৃতি

দেশটির পুলিশ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ধর্ষণের ঘটনা ছিল সাত হাজার ছয়শোর বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মুসলিম অঞ্চলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রকৃত সংখ্যা অনেক সময় প্রকাশ পায় না। সামাজিক চাপে অনেক ঘটনা গোপন থেকে যায়, যা ‘নীরবতার সংস্কৃতি’কে আরও শক্তিশালী করে।

আন্তর্জাতিক প্রশংসা ও মানবাধিকার বার্তা

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার স্থানীয় শাখা এই ফতোয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি নারী ও কিশোরীদের মৌলিক অধিকারকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে এবং যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করার বার্তাও দিয়েছে এই সিদ্ধান্ত।

এই ফতোয়া শুধু একটি ধর্মীয় নির্দেশনা নয়, বরং নারীর মর্যাদা রক্ষায় একটি শক্তিশালী সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা বলেই মনে করা হচ্ছে।