পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে
মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের দুটি বড় ইস্পাত কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে আরাক প্রদেশের শাহিদ খোনদাব হেভি ওয়াটার কমপ্লেক্স এবং ইয়াজদ প্রদেশের আরদাকান ইউরেনিয়াম উৎপাদন কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। আরাক কমপ্লেক্স অতীতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়েছে। এই দুটি স্থাপনায় হামলা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর।
পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। যদিও এই স্থাপনাগুলো সক্রিয় চুল্লি নয় এবং তাৎক্ষণিক তেজস্ক্রিয় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম, তবুও এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক আইনের সীমানায় প্রশ্ন তোলে। ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছিলেন আরও কয়েক মাস দেরি হলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি “রোধের বাইরে” চলে যেত।

ইস্পাত কারখানায় হামলা ইরানের শিল্প অর্থনীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। ইরানের ইস্পাত শিল্প দেশের নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতের মেরুদণ্ড। এই খাত ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞায় চাপে ছিল। সরাসরি সামরিক হামলা তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ ছাড়া ইরানের অন্তত ১২০টি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত বলে বিবেচিত। ইরান এই বিষয়গুলো নিয়ে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ এই পটভূমিতেই জানিয়েছেন যে হামলা “আরও তীব্র ও বিস্তৃত” হবে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি, যিনি তার পিতা আলি খামেনির হত্যার পর দায়িত্ব নিয়েছেন, এখন দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরান কতটা শক্তভাবে প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারে এবং শান্তি আলোচনায় কতটা নমনীয় হবে, তা নির্ধারণ করবে যুদ্ধের পরবর্তী গতিপথ।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















