কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, কিন্তু যুদ্ধ থামছে না
ইরান যুদ্ধে শান্তি আলোচনার জন্য ইরান পাঁচটি শর্ত সামনে রেখেছে। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা এবং মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। হোয়াইট হাউস এই প্রস্তাবকে “একতরফা ও অগ্রহণযোগ্য” বলে মনে করছে। তেহরানে প্রতিবেদকরা জানাচ্ছেন, ইরানের সাধারণ মানুষ মার্কিন দাবির কথায় কান দিচ্ছে না, তারা মাথার ওপর চলমান হামলাকেই আলোচনার আন্তরিকতার মাপকাঠি মনে করছে। হামলা চলতে থাকলে আলোচনা সফল হবে না বলেই ইরানের অবস্থান।
পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তাবাহকের ভূমিকা রাখছে। তুরস্ক ও মিশরও মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে। এই তিনটি দেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং ইরান ও পশ্চিমা উভয় পক্ষের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মধ্যস্থতা একটি আশার আলো, কিন্তু দুই পক্ষের দাবির ব্যবধান এত বড় যে সমঝোতা সহজ নয়। ট্রাম্প বলেছেন আলোচনা “খুব ভালো যাচ্ছে”, কিন্তু ইরান বলছে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে না।

এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট যে উভয় পক্ষই কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, কিন্তু প্রকাশ্যে সেটা স্বীকার করতে রাজি নয়। ট্রাম্প ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিত রেখেছেন, যাকে কেউ কেউ আলোচনার সুযোগ দেওয়া হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে ইরান হরমুজে কিছু জাহাজকে ট্রানজিট ফি দিয়ে পার হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। থাইল্যান্ড ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে এই ধরনের একটি ব্যবস্থায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
জি৭ বৈঠকে রুবিও মিত্রদের সমর্থন আদায়ে সফল হননি। ইউরোপীয় দেশগুলো যুদ্ধের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে জোর দিচ্ছে। মার্কিন কংগ্রেসেও চাপ বাড়ছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছেন, যদিও এপ্রিলের মাঝামাঝির আগে সেটি ভোটে উঠছে না। ৬ এপ্রিলের সময়সীমার আগে কূটনীতি কতটা এগোতে পারে, তার ওপর নির্ভর করছে যুদ্ধের পরবর্তী অধ্যায়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















