বাজার এখন দীর্ঘমেয়াদি সংকটের হিসাব করছে
ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২৭ মার্চ ৪.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল মাত্র ৭০ ডলার। মার্কিন বেঞ্চমার্ক ক্রুডও ৪.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৪৮ ডলারে উঠেছে। এনপিআর-এর সঙ্গে কথা বলা বিশ্লেষক রোরি জনস্টন বলেছেন বাজার এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ ধাক্কা নিয়ে একটি অদ্ভুত অনিশ্চয়তায় আছে। ট্রাম্পের প্রতিটি ইতিবাচক বক্তব্যে দাম কিছুটা কমছে, কিন্তু হরমুজ বন্ধের বাস্তবতায় আবার বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) প্রধান এই সংকটকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বলে বর্ণনা করেছেন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়, যা এখন কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে। উপসাগরীয় উৎপাদনকারী দেশগুলো সংরক্ষণ ক্ষমতা ফুরিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে বাজার চাপে পড়েছে যা ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়কার তুলনায় আরও মৌলিক এবং দীর্ঘস্থায়ী।

বাংলাদেশের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি আঘাত। দেশটি প্রায় সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চলে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি সেচ, পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন সব কিছুতে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ইতোমধ্যে যানবাহনপ্রতি জ্বালানি রেশনিং চালু করেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান চার দিনের কর্মসপ্তাহ ও বিদ্যালয় বন্ধের মতো জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সংকট ক্রমে গভীর হচ্ছে।
বিশ্ব শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মার্কিন এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক পরপর পাঁচ সপ্তাহ পতনের দিকে যাচ্ছে, যা প্রায় চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিক পতন। ন্যাসড্যাক বছরের শুরুর সর্বোচ্চ থেকে ১০ শতাংশের বেশি নেমে কারেকশন জোনে প্রবেশ করেছে। বন্ড বাজারেও অস্থিরতা বাড়ছে। জাপানের পাঁচ বছরের সরকারি বন্ডের সুদের হার ঐতিহাসিক সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন এই জ্বালানি ধাক্কা সামলাতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদ হার কমানো পিছিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















