যুদ্ধের ধাক্কা ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাস্তায়
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট দ্রুত তীব্র হয়েছে। সারা দেশে পেট্রোল স্টেশনে গাড়ির লম্বা সারি দেখা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন সংকটের দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, ভবিষ্যতে সংকট হবে আশঙ্কায় ক্রেতাদের মজুত করার প্রবণতা। দ্বিতীয়ত, অনেক বিক্রেতা মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এই দ্বৈত চাপ মোকাবেলায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ৫ মার্চ থেকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য জ্বালানি সীমা নির্ধারণ করে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। দৈনন্দিন চলাচলে এই ব্যবস্থা বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রায় সম্পূর্ণরূপে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তরলীভূত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির বড় ভূমিকা রয়েছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যীয় বাজার থেকে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এবং কাতারের এলএনজি রপ্তানি সংকটে পড়ায় বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কৃষিতে সেচের জন্য ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহার করা হয়, আর শিল্প কলকারখানায় ক্যাপটিভ বিদ্যুতের জন্য ফার্নেস অয়েল দরকার। এই দুই খাতেই খরচ বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন ইরান যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি “শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া” শুরু করেছে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সর্বত্র ব্যয় বাড়ে। কৃষিতে সেচ খরচ বেড়ে যাওয়া বোরো মৌসুমের উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে। খাদ্য পণ্যের দাম বাড়বে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে এবং এই নতুন চাপ তাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষজ্ঞ মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন এখনই জরুরি পরিকল্পনা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
ইরান যুদ্ধের আগেই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ ছিল। এখন আমদানি ব্যয় বাড়ায় সেই চাপ আরও বাড়ছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ এখন প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক সুদের হার ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে এই ঋণ পরিশোধের বোঝা বাড়ছে। নীতি-নির্ধারকরা সৌরশক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শ্রমবাজার বহুমুখী করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এই সংকট প্রমাণ করছে একটি দূরের যুদ্ধও বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















