ঢাকা ও চট্টগ্রামের কারখানায় সংকটের ছায়া
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ইরান যুদ্ধের আগে থেকেই চাপে ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক রপ্তানি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১.৫৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.২৫ শতাংশ কম। রপ্তানির পরিমাণ ১৭.৪৯ শতাংশ কমেছে এবং গড় মূল্যও ৯.৪১ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকরা এই দ্বৈত পতনকে “ডাবল ব্লো” বলছেন। এই দুর্বল ভিত্তির ওপরেই এখন ইরান যুদ্ধের নতুন ধাক্কা এসে পড়েছে।
বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেছেন ইরান সংঘাত লজিস্টিকস ও জ্বালানি উভয় ক্ষেত্রেই খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের শিল্প এলাকায় কারখানা মালিকরা জানাচ্ছেন বিদ্যুৎ ও ক্যাপটিভ জেনারেটরের জ্বালানি খরচ বেড়েছে। এই বাড়তি খরচ ক্রেতাদের কাছে পাস করা কঠিন কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে কারণ তাদের মজুত ও নগদ অর্থের সক্ষমতা কম।
শিপিং লাইনগুলো হরমুজ ও লোহিত সাগর এড়াতে বিকল্প পথে যাচ্ছে। এতে মালবাহী জাহাজের সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। যুদ্ধ-ঝুঁকির কারণে সামুদ্রিক বীমার প্রিমিয়াম কয়েকগুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পোশাক পাঠাতে যে লজিস্টিকস খরচ হয় তা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই বাড়তি খরচ সরাসরি মুনাফা কমাচ্ছে এবং অর্ডার পাওয়ার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও কমাচ্ছে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেছেন ইরান যুদ্ধ পোশাক খাতের জন্য “তাজা হুমকি” হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মার্চের মাঝামাঝি একটি বিবৃতিতে উচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ, পরিবহনজনিত মূল্যস্ফীতি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের কথা উল্লেখ করেছে। নীতি-নির্ধারকদের পরামর্শ হলো জরুরি ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর ভিত্তি প্রসারিত করা এবং বাজার বহুমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া, যাতে পরবর্তী ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা তৈরি হয়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















