০২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
সারাদেশে বৃষ্টি-বজ্রঝড়ের আভাস, কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভয়াল ভাঙন: গৃহহীন ৫০ পরিবার, ঝুঁকিতে আরও শতাধিক কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গুলিবিদ্ধ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ সাতক্ষীরায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, অন্ধকারে বহু এলাকা এক-এগারোর ডিজিএফআই প্রধান আফজাল নাছের গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ শুরু গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে, ১২ এপ্রিলের পর আর থাকছে না সিলেটে হামের আতঙ্ক: হাসপাতালে ভর্তি ১২ শিশু, বাড়ছে সংক্রমণ তেলের দামে ঝড়: ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে ব্রেন্ট, হুথি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট কুয়েতে বিদ্যুৎ ও পানি প্ল্যান্টে ইরানি হামলা, নিহত ভারতীয় কর্মী মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন, ইরান ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপ ভাবছেন ট্রাম্প

বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দ ৭০ শতাংশে উন্নীত, অগ্রাধিকার পাবে শিল্প খাত

ভারতের বাণিজ্যিক খাতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহ আরও বাড়ানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, সংকট-পূর্ব সময়ের তুলনায় এখন মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এতে শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় নতুন করে আরও ২০ শতাংশ এলপিজি বরাদ্দ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে আগের ঘোষিত অতিরিক্ত বরাদ্দসহ মোট সরবরাহ এখন সংকট-পূর্ব অবস্থার ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। এই অতিরিক্ত বরাদ্দ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

কোন খাত পাবে অগ্রাধিকার
সরকার জানিয়েছে, যেসব খাতে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর ও জরুরি শিল্প খাতগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, যেগুলো দেশের অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

এর মধ্যে রয়েছে ইস্পাত, অটোমোবাইল, বস্ত্র, রং, রাসায়নিক ও প্লাস্টিক শিল্প। এসব খাতের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এলপিজির বিশেষ ব্যবহার রয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যায় না।

বিশেষ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছাড়
সরকার স্পষ্ট করেছে, যেসব শিল্পে বিশেষ ধরনের তাপ প্রক্রিয়ার জন্য এলপিজি অপরিহার্য, সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। অর্থাৎ, এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান আগের মতোই এলপিজি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবে।

এর আগে ইস্পাত মন্ত্রণালয় এলপিজির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য হস্তক্ষেপ চেয়েছিল।

পাইপড গ্যাস ব্যবহারে উৎসাহ
সরকার একই সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। মার্চের শুরুতে ঘোষিত অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও শর্ত ছিল—রাজ্যগুলোকে পাইপড গ্যাস ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বরাদ্দ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিটি গ্যাস বিতরণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পাইপড গ্যাসে রূপান্তরের জন্য আবেদন করতে হবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে এলপিজি ব্যবহার অপরিহার্য, সেগুলো এই শর্ত থেকে অব্যাহতি পাবে।

এলপিজি ঘাটতির গুজব খণ্ডন
সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এলপিজি ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে যে ধারণা ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুল। তাদের দাবি, দেশে এলপিজির সরবরাহ নিরাপদ ও স্থিতিশীল রয়েছে।

সরকারের মতে, পাইপড প্রাকৃতিক গ্যাসকে এগিয়ে নেওয়ার কারণ হলো এটি তুলনামূলক সস্তা, সুবিধাজনক এবং গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য আরও কার্যকর একটি জ্বালানি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে বৃষ্টি-বজ্রঝড়ের আভাস, কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা

বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দ ৭০ শতাংশে উন্নীত, অগ্রাধিকার পাবে শিল্প খাত

০৬:১০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ভারতের বাণিজ্যিক খাতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহ আরও বাড়ানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, সংকট-পূর্ব সময়ের তুলনায় এখন মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এতে শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় নতুন করে আরও ২০ শতাংশ এলপিজি বরাদ্দ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে আগের ঘোষিত অতিরিক্ত বরাদ্দসহ মোট সরবরাহ এখন সংকট-পূর্ব অবস্থার ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। এই অতিরিক্ত বরাদ্দ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

কোন খাত পাবে অগ্রাধিকার
সরকার জানিয়েছে, যেসব খাতে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর ও জরুরি শিল্প খাতগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, যেগুলো দেশের অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

এর মধ্যে রয়েছে ইস্পাত, অটোমোবাইল, বস্ত্র, রং, রাসায়নিক ও প্লাস্টিক শিল্প। এসব খাতের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এলপিজির বিশেষ ব্যবহার রয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যায় না।

বিশেষ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছাড়
সরকার স্পষ্ট করেছে, যেসব শিল্পে বিশেষ ধরনের তাপ প্রক্রিয়ার জন্য এলপিজি অপরিহার্য, সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। অর্থাৎ, এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান আগের মতোই এলপিজি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবে।

এর আগে ইস্পাত মন্ত্রণালয় এলপিজির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য হস্তক্ষেপ চেয়েছিল।

পাইপড গ্যাস ব্যবহারে উৎসাহ
সরকার একই সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। মার্চের শুরুতে ঘোষিত অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও শর্ত ছিল—রাজ্যগুলোকে পাইপড গ্যাস ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বরাদ্দ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিটি গ্যাস বিতরণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পাইপড গ্যাসে রূপান্তরের জন্য আবেদন করতে হবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে এলপিজি ব্যবহার অপরিহার্য, সেগুলো এই শর্ত থেকে অব্যাহতি পাবে।

এলপিজি ঘাটতির গুজব খণ্ডন
সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এলপিজি ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে যে ধারণা ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুল। তাদের দাবি, দেশে এলপিজির সরবরাহ নিরাপদ ও স্থিতিশীল রয়েছে।

সরকারের মতে, পাইপড প্রাকৃতিক গ্যাসকে এগিয়ে নেওয়ার কারণ হলো এটি তুলনামূলক সস্তা, সুবিধাজনক এবং গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য আরও কার্যকর একটি জ্বালানি।