ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা কামাল খারাজি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) তেহরানে তাদের বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এই ঘটনা ঘটে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা এই হামলাকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ধ্বংসের সুচিন্তিত প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন।

শান্তির দূতকে টার্গেট
এই হামলার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কামাল খারাজি সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি সম্ভাব্য বৈঠক আয়োজন করা। সেই পটভূমিতে তার বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়। ইরান বলছে, এই হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের মধ্যে চলতে থাকা কূটনৈতিক সুতো ছিন্ন করার চেষ্টা হয়েছে।
আলোচনা না বোমা?
একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন তেহরান যুদ্ধবিরতি চেয়েছে, যা ইরান অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে ইরানের বার্তা বিনিময় হচ্ছে বলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি স্বীকার করেছেন। কিন্তু আলোচনার যে সামান্য সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, খারাজির বাড়িতে হামলা সেই সম্ভাবনাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নষ্ট করতেই এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ইসরায়েলি হামলায় সাতজন আহত হওয়ার খবরও একই দিনে এসেছে।

এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি কূটনীতিকদের বাসস্থানকেও টার্গেট করার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















