ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করতে চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে একটি পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। এই প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা এবং কূটনৈতিক সংলাপ পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বেইজিং এই সংকট সমাধানে তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা ক্রমশ জোরদার করছে।

পাঁচ দফার মূল বিষয়
সূত্রমতে, চীন-পাকিস্তানের প্রস্তাবে রয়েছে: অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, হরমুজ প্রণালী পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা, সব পক্ষের মধ্যে জরুরি কূটনৈতিক সংলাপ শুরু করা, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধ করা এবং মানবিক সহায়তার পথ নিশ্চিত করা। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানও এই সংকট সমাধানে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া পোপ লিও চতুর্দশ সম্প্রতি ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক অর্থনীতির গলা
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বের জ্বালানি বাজারে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের এক মাসেই আরব বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদন ১২০ থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার সংকুচিত হয়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে। জ্বালানি তেল ও সার আমদানির খরচ বেড়েছে এবং টাকার ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

যুক্তরাজ্য এই সংকট নিয়ে প্রায় ৩৫টি দেশের একটি সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে। স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালি ইতিমধ্যে মার্কিন সামরিক সহায়তায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আর্জেন্টিনা ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। যুদ্ধের কূটনৈতিক মানচিত্র প্রতিদিনই পরিবর্তিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















