ইরান যুদ্ধের ৩৩তম দিনে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী হরমুজগান প্রদেশের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের শহীদ হাক্কানি যাত্রীঘাটে বিমান হামলা চালিয়েছে। একই দিনে হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে একটি বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনকারী (ডিস্যালিনেশন) প্লান্টও সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে গেছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, বন্দর আব্বাসের যাত্রীঘাটে হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বেসামরিক অবকাঠামোয় বারবার হামলা
ইরানের হরমুজগান প্রদেশের শীর্ষ কর্মকর্তা আহমাদ নাফিসি এই হামলাকে ‘অপরাধমূলক’ বলে নিন্দা করে বলেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কেশম দ্বীপের ডিস্যালিনেশন প্লান্ট হরমুজ প্রণালীর এই দ্বীপের বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানির প্রধান উৎস ছিল। এই প্লান্ট ধ্বংসের ফলে সেখানকার জনগোষ্ঠীর পানীয় জলের সংকট তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে তেহরানের একটি ওষুধ কারখানা এবং ইরানজুড়ে ১২০টিরও বেশি ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলার খবর আসে।
যুদ্ধের নতুন অধ্যায়: পানি অস্ত্র হিসেবে
বুধবার ট্রাম্প ইরানের সব ডিস্যালিনেশন প্লান্ট ধ্বংসের হুমকিও দিয়েছেন। ইরানের মতো শুষ্ক আবহাওয়ার দেশে পানি পরিশোধন কেন্দ্র ধ্বংস করার অর্থ হলো লাখো মানুষকে পানির জন্য সংকটে ফেলা। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসামরিক জনগণের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য এই অবকাঠামো ধ্বংস করা সুস্পষ্টভাবে যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এনপিআরের তথ্যমতে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষই বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসের পরিমাণ অনেক বেশি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















