০৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা ছড়াতে হবে: আসামে ভোটারদের জুবিনের কথা মনে করালেন রাহুল পাখিদের ঋতুভিত্তিক পাহাড়ি অভিবাসন পরিচালনা করে শক্তি ব্যবস্থাপনা মধ্যবঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই তীব্র: কংগ্রেসের পুনর্জাগরণের চেষ্টা অসম জাতীয় পরিষদের প্রার্থী কুংকি চৌধুরীর পিতামাতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি, গরুর মাংস বিতর্কে উত্তপ্ত অসম লালমনিরহাটে ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে গুরুতর আহত মিজান ইসলাম এলপিজি সংকটে, মাইগ্র্যান্ট শ্রমিকরা দিল্লি ত্যাগ করে বিহার ও উত্তর প্রদেশের পথে ব্যয় সংকটে সরকার: রাজস্ব ঘাটতি ও ঋণের চাপ বাড়াচ্ছে অর্থনীতি পৃথিবীর বাজার যখন ধীর, তখন ধৈর্য ধরাই শ্রেয় পশ্চিমবঙ্গের আলু চাষিরা দারিদ্র্যের গহ্বরে: মূল্য পতনের ছায়ায় কৃষক আত্মহত্যা ও নির্বাচনী উত্তেজনা মালদার ঘেরাও ‘মহা জঙ্গল রাজ’-এর উদাহরণ: মোদি

আইপিও বাজারে নতুন জোয়ার: স্পেসএক্সসহ বড় কোম্পানির আগমনে বদলাচ্ছে বিনিয়োগের চিত্র

বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আইপিও। দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি বাজারের দিকে ঝুঁকে থাকা বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন আবার জনসাধারণের জন্য শেয়ার ছাড়ার দিকে এগোচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স, যার সম্ভাব্য আইপিওকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্পেসএক্সের আইপিও ঘিরে নতুন প্রত্যাশা

একসময় প্রকাশ্য শেয়ারবাজারে আসার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন ইলন মাস্ক। তবে সময়ের সঙ্গে তার অবস্থান বদলেছে। চলতি বছরে স্পেসএক্স প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে বাজারে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে কোম্পানিটির মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আগের যেকোনো আইপিওর তুলনায় অনেক বেশি।

শুধু স্পেসএক্সই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকও একই পথে হাঁটার পরিকল্পনা করছে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর আইপিওর একটি নতুন ঢেউ তৈরি হচ্ছে।

The plan to make IPOs great again

কেন কমে গিয়েছিল আইপিওর আকর্ষণ

গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর পেছনে বড় কারণ ছিল কঠোর নিয়মকানুন, বেশি খরচ এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সহজলভ্যতা। অনেক স্টার্টআপ প্রকাশ্য বাজারে না গিয়ে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেই অর্থ সংগ্রহ করতে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে।

এছাড়া বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক পাবলিক কোম্পানিকে অধিগ্রহণ করে বেসরকারি করে ফেলেছে। ফলে আইপিওর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমে গেছে।

নিয়ন্ত্রকদের নতুন উদ্যোগ

এই পরিস্থিতি বদলাতে এখন উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। তারা চায় কোম্পানিগুলো আবার শেয়ারবাজারে ফিরুক। এজন্য নিয়মকানুন সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেমন বছরে চারবারের পরিবর্তে দুইবার রিপোর্ট দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

এছাড়া পরিবেশ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা কমানো এবং বাইরের পরামর্শদাতা বা আইনি চাপ কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কোম্পানিগুলোর জন্য পাবলিক হওয়া সহজ করা।

How Trump's SEC chair wants to 'make IPOs great again'

সূচক সংস্থাগুলোর কৌশল

শেয়ারবাজার সূচক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এই পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। তারা চায় বড় কোম্পানিগুলো দ্রুত তাদের সূচকে যুক্ত হোক। এজন্য আইপিওর পর অপেক্ষার সময় কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ে।

কিছু ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন কোম্পানিকে সূচকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। এতে বড় তহবিলগুলো দ্রুত সেই কোম্পানির শেয়ার কিনতে বাধ্য হবে, যা বাজারে চাহিদা বাড়াবে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি ও উদ্বেগ

তবে এই পরিবর্তনের কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। দ্রুত সূচকে অন্তর্ভুক্ত হলে তহবিলগুলোকে উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনতে হতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

ইতিহাস বলছে, যেসব কোম্পানি খুব কম শেয়ার বাজারে ছেড়েছে, তারা পরবর্তী কয়েক বছরে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারেনি। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক থাকা জরুরি।

Making IPOs great again has its pitfalls

বাজারে শক্তির লড়াই

বর্তমানে বেসরকারি বাজার অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে বড় কোম্পানিগুলোর উচ্চাভিলাষ পূরণে এখনও পাবলিক মার্কেটের বিশাল অর্থের প্রয়োজন। তাই এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা চলছে।

আগামী কয়েক মাস এই পরিবর্তনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। এতে বোঝা যাবে, আইপিও বাজার সত্যিই আবার আগের শক্তি ফিরে পায় কিনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা ছড়াতে হবে: আসামে ভোটারদের জুবিনের কথা মনে করালেন রাহুল

আইপিও বাজারে নতুন জোয়ার: স্পেসএক্সসহ বড় কোম্পানির আগমনে বদলাচ্ছে বিনিয়োগের চিত্র

০৩:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আইপিও। দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি বাজারের দিকে ঝুঁকে থাকা বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন আবার জনসাধারণের জন্য শেয়ার ছাড়ার দিকে এগোচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স, যার সম্ভাব্য আইপিওকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্পেসএক্সের আইপিও ঘিরে নতুন প্রত্যাশা

একসময় প্রকাশ্য শেয়ারবাজারে আসার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন ইলন মাস্ক। তবে সময়ের সঙ্গে তার অবস্থান বদলেছে। চলতি বছরে স্পেসএক্স প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে বাজারে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে কোম্পানিটির মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আগের যেকোনো আইপিওর তুলনায় অনেক বেশি।

শুধু স্পেসএক্সই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকও একই পথে হাঁটার পরিকল্পনা করছে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর আইপিওর একটি নতুন ঢেউ তৈরি হচ্ছে।

The plan to make IPOs great again

কেন কমে গিয়েছিল আইপিওর আকর্ষণ

গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর পেছনে বড় কারণ ছিল কঠোর নিয়মকানুন, বেশি খরচ এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সহজলভ্যতা। অনেক স্টার্টআপ প্রকাশ্য বাজারে না গিয়ে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেই অর্থ সংগ্রহ করতে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে।

এছাড়া বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক পাবলিক কোম্পানিকে অধিগ্রহণ করে বেসরকারি করে ফেলেছে। ফলে আইপিওর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমে গেছে।

নিয়ন্ত্রকদের নতুন উদ্যোগ

এই পরিস্থিতি বদলাতে এখন উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। তারা চায় কোম্পানিগুলো আবার শেয়ারবাজারে ফিরুক। এজন্য নিয়মকানুন সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেমন বছরে চারবারের পরিবর্তে দুইবার রিপোর্ট দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

এছাড়া পরিবেশ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা কমানো এবং বাইরের পরামর্শদাতা বা আইনি চাপ কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কোম্পানিগুলোর জন্য পাবলিক হওয়া সহজ করা।

How Trump's SEC chair wants to 'make IPOs great again'

সূচক সংস্থাগুলোর কৌশল

শেয়ারবাজার সূচক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এই পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। তারা চায় বড় কোম্পানিগুলো দ্রুত তাদের সূচকে যুক্ত হোক। এজন্য আইপিওর পর অপেক্ষার সময় কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ে।

কিছু ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন কোম্পানিকে সূচকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। এতে বড় তহবিলগুলো দ্রুত সেই কোম্পানির শেয়ার কিনতে বাধ্য হবে, যা বাজারে চাহিদা বাড়াবে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি ও উদ্বেগ

তবে এই পরিবর্তনের কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। দ্রুত সূচকে অন্তর্ভুক্ত হলে তহবিলগুলোকে উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনতে হতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

ইতিহাস বলছে, যেসব কোম্পানি খুব কম শেয়ার বাজারে ছেড়েছে, তারা পরবর্তী কয়েক বছরে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারেনি। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক থাকা জরুরি।

Making IPOs great again has its pitfalls

বাজারে শক্তির লড়াই

বর্তমানে বেসরকারি বাজার অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে বড় কোম্পানিগুলোর উচ্চাভিলাষ পূরণে এখনও পাবলিক মার্কেটের বিশাল অর্থের প্রয়োজন। তাই এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা চলছে।

আগামী কয়েক মাস এই পরিবর্তনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। এতে বোঝা যাবে, আইপিও বাজার সত্যিই আবার আগের শক্তি ফিরে পায় কিনা।