০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
লাবানডাহা নদী: দখল ও দূষণের ছায়ায় বিলীন গ্রাম ছাড়ছে নারীরা, সংকটে জাপানের ভবিষ্যৎ: লিঙ্গবৈষম্যে ফাঁকা হচ্ছে জনপদ এশিয়ায় তেলের ঝড়: দূরের যুদ্ধ, ঘরের অর্থনীতিতে তীব্র আঘাত এআইকে ‘স্বাভাবিক’ ভাবার ভুলে কর্পোরেট বিপদ: অদ্ভুত শক্তিকেই কাজে লাগানোর ডাক জাবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা: এক বছরেও পিবিআই পায়নি মামলা নথি জ্যাকসনের প্রতিশ্রুতিভঙ্গ: নিউ অরলিন্স যুদ্ধ থেকে ‘অশ্রুর পথ’—ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায় আফ্রিকার ভবিষ্যৎ, ব্রিটেনের পরিবর্তন ও প্রযুক্তির দখলযুদ্ধ: বৈশ্বিক বাস্তবতায় নতুন প্রশ্ন ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা ছড়াতে হবে: আসামে ভোটারদের জুবিনের কথা মনে করালেন রাহুল পাখিদের ঋতুভিত্তিক পাহাড়ি অভিবাসন পরিচালনা করে শক্তি ব্যবস্থাপনা মধ্যবঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই তীব্র: কংগ্রেসের পুনর্জাগরণের চেষ্টা

উপসাগরীয় যুদ্ধের ধাক্কা: ভারতীয় রিফাইনারিতে লাভ কমে চাপে জ্বালানি বাজার

উপসাগরীয় যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় ভারতের রিফাইনারি শিল্প এখন কঠিন চাপে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাভবান হওয়া এই খাত এখন উল্টো সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতীয় তেল আমদানির ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে।

মধ্যপ্রাচ্য নির্ভরতা কমে বড় ঘাটতি

যুদ্ধের আগে ভারত প্রতিদিন প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করত, যা ছিল মোট আমদানির প্রায় অর্ধেক। প্রধান সরবরাহকারী ছিল ইরাক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে দেশের পশ্চিম উপকূলে তেলের প্রবাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এই ঘাটতি পূরণে ভারত আবার রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। আগে রাজনৈতিক চাপ ও শুল্ক নীতির কারণে রাশিয়া থেকে আমদানি কমানো হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত প্রায় তিন কোটি ব্যারেল তেল কেনা হয়েছে, যা প্রায় আড়াই সপ্তাহের ঘাটতি পূরণে সহায়ক।

List of oil refineries in India

বিকল্প উৎসেও পূর্ণ সমাধান নয়

ভারতের কিছু রিফাইনারি নিম্নমানের ও উচ্চ সালফারযুক্ত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রাখে। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আমদানির পথ খুঁজেছে। তবুও মধ্যপ্রাচ্যের ঘাটতির পুরোটা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিদিন প্রায় সাত লাখ ব্যারেলের ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে তেল কোম্পানিগুলো তাদের বাণিজ্যিক মজুদ ব্যবহার শুরু করেছে, যাতে স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ সচল রাখা যায়।

লাভ কমছে, বাড়ছে প্রতিযোগিতা

সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি রিফাইনারিগুলোর মুনাফা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। আগে যেখানে রাশিয়ার তেল কম দামে পাওয়া যেত, এখন তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ডলার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশও রাশিয়ার তেলের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে প্রতি মাসে শিল্পখাতের আয় বার্ষিক হিসাবে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

Oil Refinery in India | Petroleum Refinery | BPCL, India

সরকারি নীতিও বাড়াচ্ছে চাপ

ভারতের সরকার ২০২২ সাল থেকে অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দাম স্থির রেখেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশীয় বাজারে তা সমন্বয় করা যাচ্ছে না। এতে রিফাইনারিগুলো খুচরা পর্যায়ে আরও চাপে পড়ছে।

এর পাশাপাশি সরকার ডিজেল ও জেট জ্বালানির রপ্তানিতে অতিরিক্ত কর আরোপ করেছে এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবহারে কর কমিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ দামে বিক্রির সুযোগ থাকলেও রিফাইনারিগুলো সেই সুবিধা নিতে পারছে না।

Which Companies Refine Crude Oil in India?

আটকে পড়া শিল্প, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সরবরাহ সংকট, বাড়তি ব্যয়, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ—সবকিছু মিলিয়ে ভারতীয় রিফাইনারি শিল্প এক জটিল অবস্থায় আটকে গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই খাতের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাবানডাহা নদী: দখল ও দূষণের ছায়ায় বিলীন

উপসাগরীয় যুদ্ধের ধাক্কা: ভারতীয় রিফাইনারিতে লাভ কমে চাপে জ্বালানি বাজার

০৩:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

উপসাগরীয় যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় ভারতের রিফাইনারি শিল্প এখন কঠিন চাপে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাভবান হওয়া এই খাত এখন উল্টো সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতীয় তেল আমদানির ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে।

মধ্যপ্রাচ্য নির্ভরতা কমে বড় ঘাটতি

যুদ্ধের আগে ভারত প্রতিদিন প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করত, যা ছিল মোট আমদানির প্রায় অর্ধেক। প্রধান সরবরাহকারী ছিল ইরাক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে দেশের পশ্চিম উপকূলে তেলের প্রবাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এই ঘাটতি পূরণে ভারত আবার রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। আগে রাজনৈতিক চাপ ও শুল্ক নীতির কারণে রাশিয়া থেকে আমদানি কমানো হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত প্রায় তিন কোটি ব্যারেল তেল কেনা হয়েছে, যা প্রায় আড়াই সপ্তাহের ঘাটতি পূরণে সহায়ক।

List of oil refineries in India

বিকল্প উৎসেও পূর্ণ সমাধান নয়

ভারতের কিছু রিফাইনারি নিম্নমানের ও উচ্চ সালফারযুক্ত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রাখে। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আমদানির পথ খুঁজেছে। তবুও মধ্যপ্রাচ্যের ঘাটতির পুরোটা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিদিন প্রায় সাত লাখ ব্যারেলের ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে তেল কোম্পানিগুলো তাদের বাণিজ্যিক মজুদ ব্যবহার শুরু করেছে, যাতে স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ সচল রাখা যায়।

লাভ কমছে, বাড়ছে প্রতিযোগিতা

সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি রিফাইনারিগুলোর মুনাফা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। আগে যেখানে রাশিয়ার তেল কম দামে পাওয়া যেত, এখন তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ডলার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশও রাশিয়ার তেলের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে প্রতি মাসে শিল্পখাতের আয় বার্ষিক হিসাবে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

Oil Refinery in India | Petroleum Refinery | BPCL, India

সরকারি নীতিও বাড়াচ্ছে চাপ

ভারতের সরকার ২০২২ সাল থেকে অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দাম স্থির রেখেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশীয় বাজারে তা সমন্বয় করা যাচ্ছে না। এতে রিফাইনারিগুলো খুচরা পর্যায়ে আরও চাপে পড়ছে।

এর পাশাপাশি সরকার ডিজেল ও জেট জ্বালানির রপ্তানিতে অতিরিক্ত কর আরোপ করেছে এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবহারে কর কমিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ দামে বিক্রির সুযোগ থাকলেও রিফাইনারিগুলো সেই সুবিধা নিতে পারছে না।

Which Companies Refine Crude Oil in India?

আটকে পড়া শিল্প, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সরবরাহ সংকট, বাড়তি ব্যয়, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ—সবকিছু মিলিয়ে ভারতীয় রিফাইনারি শিল্প এক জটিল অবস্থায় আটকে গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই খাতের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।