০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত, বাহরাইন ও আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হাইফায় সাততলা ভবনে আঘাত, দুজন নিহত, দুজন নিখোঁজ পোপ লিও ইস্টার বার্তায় অস্ত্র সমর্পণ ও শান্তির আহ্বান জানালেন আজ রাতে চাঁদের চারপাশে ঘুরবে আর্টেমিস টু, ভাঙবে অ্যাপোলো ১৩-এর দূরত্বের রেকর্ড সাত বছর পর প্রথমবার ইরান থেকে তেল কিনল ভারত তাপপ্রবাহের পর বজ্রসহ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস ট্রাম্পের ইরান আগ্রাসন: খার্গ দ্বীপে আমেরিকার ঝুঁকি ও ভয় চীনা দৃষ্টিকোণ থেকে ইরান যুদ্ধ: মার্কিন কৌশলের ব্যর্থতা ও নতুন সুযোগের ছায়া সুচিত্রা সেনের জন্মবার্ষিকী: পাবনা থেকে সিনেমার মহানতায় যাত্রার স্মৃতি সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে মূল্যবান সরঞ্জামের ক্ষতি

এশিয়ায় তেলের ঝড়: দূরের যুদ্ধ, ঘরের অর্থনীতিতে তীব্র আঘাত

পারস্য উপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লড়াই যত তীব্র হচ্ছে, তার অভিঘাত ততই ছড়িয়ে পড়ছে এশিয়ার অর্থনীতিতে। জ্বালানির বড় অংশ যেসব পথে এশিয়ায় পৌঁছায়, সেই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সংকটে পড়ায় পুরো অঞ্চল এখন এক ধরনের জ্বালানি ধাক্কার মুখে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নয়, বরং এশিয়ার জন্য এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের সূচনা।

জ্বালানির ওপর নির্ভরতা, বিপদের গভীরতা

এশিয়ার দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফিলিপাইনের মতো দেশে প্রায় পুরো জ্বালানি আমদানিই ওই অঞ্চল থেকে আসে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বড় অংশের তরল গ্যাসও এই পথ দিয়েই আসে। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন মানেই সরাসরি অর্থনীতিতে চাপ।

ধনী দেশগুলোও রক্ষা পাচ্ছে না। জাপানের মতো দেশ বিশাল মজুত গড়ে তুললেও পরিবহন খাতে সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় ছোট ব্যবসা থেকে বড় শিল্প পর্যন্ত সবাই চাপে পড়ছে।

Volatility alert: Oil shock looms as markets reopen Monday amid West Asia  war disrupting Gulf supplies - BusinessToday

মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ ও স্থবিরতার আশঙ্কা

যুদ্ধের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ছে, তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই বৃদ্ধি আরও তীব্র। অনেক দেশে পেট্রোলের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। যদিও ভারত বা বাংলাদেশের মতো দেশে সরকার নিয়ন্ত্রণে রাখায় তা সরাসরি বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে চাপ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি অর্থনীতিকে একসঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধি হ্রাসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘস্থায়ী হলে এটি স্থবিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

Southeast Asia shuts offices, limits travel as oil crisis deepens

সরকারের ব্যয়চাপ ও আর্থিক ঝুঁকি

জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে অনেক সরকারকে ভর্তুকি বাড়াতে হচ্ছে। এতে বাজেট ঘাটতি বাড়ছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু দেশ বাধ্য হয়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

খাদ্য থেকে পরিবহন, সর্বত্র প্রভাব

জ্বালানির সংকট শুধু পরিবহনেই নয়, সরবরাহ শৃঙ্খল, রাসায়নিক শিল্প এবং কৃষিক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। সার সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় খাদ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।

মজুত ফুরানোর ভয়, খাতে খাতে অস্থিরতা

কিছু দেশের হাতে সীমিত জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা কয়েক সপ্তাহের বেশি চলবে না। ইতোমধ্যে বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। অনেক দেশে ফ্লাইট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিমান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

EUR/USD forecast: oil shock and Middle East tensions continue to weigh

প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা

এই জ্বালানি সংকট দীর্ঘ হলে এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, আর দক্ষিণ এশিয়াতেও এর প্রভাব পড়বে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিকল্প জ্বালানিতে ঝোঁক, তবে কয়লায় প্রত্যাবর্তন

সংকট মোকাবিলায় অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝুঁকছে। পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তির প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। তবে বাস্তবতা হলো, তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আবারও কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। অতীতে এমন পরিস্থিতি রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে, এমনকি সরকার পতনের ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক রূপও নিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত, বাহরাইন ও আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

এশিয়ায় তেলের ঝড়: দূরের যুদ্ধ, ঘরের অর্থনীতিতে তীব্র আঘাত

০৫:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

পারস্য উপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লড়াই যত তীব্র হচ্ছে, তার অভিঘাত ততই ছড়িয়ে পড়ছে এশিয়ার অর্থনীতিতে। জ্বালানির বড় অংশ যেসব পথে এশিয়ায় পৌঁছায়, সেই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সংকটে পড়ায় পুরো অঞ্চল এখন এক ধরনের জ্বালানি ধাক্কার মুখে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নয়, বরং এশিয়ার জন্য এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের সূচনা।

জ্বালানির ওপর নির্ভরতা, বিপদের গভীরতা

এশিয়ার দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফিলিপাইনের মতো দেশে প্রায় পুরো জ্বালানি আমদানিই ওই অঞ্চল থেকে আসে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বড় অংশের তরল গ্যাসও এই পথ দিয়েই আসে। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন মানেই সরাসরি অর্থনীতিতে চাপ।

ধনী দেশগুলোও রক্ষা পাচ্ছে না। জাপানের মতো দেশ বিশাল মজুত গড়ে তুললেও পরিবহন খাতে সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় ছোট ব্যবসা থেকে বড় শিল্প পর্যন্ত সবাই চাপে পড়ছে।

Volatility alert: Oil shock looms as markets reopen Monday amid West Asia  war disrupting Gulf supplies - BusinessToday

মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ ও স্থবিরতার আশঙ্কা

যুদ্ধের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ছে, তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই বৃদ্ধি আরও তীব্র। অনেক দেশে পেট্রোলের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। যদিও ভারত বা বাংলাদেশের মতো দেশে সরকার নিয়ন্ত্রণে রাখায় তা সরাসরি বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে চাপ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি অর্থনীতিকে একসঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধি হ্রাসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘস্থায়ী হলে এটি স্থবিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

Southeast Asia shuts offices, limits travel as oil crisis deepens

সরকারের ব্যয়চাপ ও আর্থিক ঝুঁকি

জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে অনেক সরকারকে ভর্তুকি বাড়াতে হচ্ছে। এতে বাজেট ঘাটতি বাড়ছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু দেশ বাধ্য হয়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

খাদ্য থেকে পরিবহন, সর্বত্র প্রভাব

জ্বালানির সংকট শুধু পরিবহনেই নয়, সরবরাহ শৃঙ্খল, রাসায়নিক শিল্প এবং কৃষিক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। সার সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় খাদ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।

মজুত ফুরানোর ভয়, খাতে খাতে অস্থিরতা

কিছু দেশের হাতে সীমিত জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা কয়েক সপ্তাহের বেশি চলবে না। ইতোমধ্যে বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। অনেক দেশে ফ্লাইট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিমান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

EUR/USD forecast: oil shock and Middle East tensions continue to weigh

প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা

এই জ্বালানি সংকট দীর্ঘ হলে এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, আর দক্ষিণ এশিয়াতেও এর প্রভাব পড়বে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিকল্প জ্বালানিতে ঝোঁক, তবে কয়লায় প্রত্যাবর্তন

সংকট মোকাবিলায় অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝুঁকছে। পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তির প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। তবে বাস্তবতা হলো, তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আবারও কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। অতীতে এমন পরিস্থিতি রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে, এমনকি সরকার পতনের ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক রূপও নিতে পারে।