০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র জিন কেটে চিরতরে উচ্চ কোলেস্টেরল দূর করার আশায় বিজ্ঞানীরা

এআইয়ের চাপে কিছু কর্মী পুনঃপ্রশিক্ষণের বদলে অবসর বেছে নিচ্ছেন

কর্মক্ষেত্রে নীরব এক সংকেত

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কিছু কর্মী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর নতুন কাজের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার বদলে অবসরকে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করছেন। এর মানে এই নয় যে এআই সঙ্গে সঙ্গে বিশাল শ্রমবাজার সংকট তৈরি করেছে। তবে এটি দেখায়, বিশেষ করে বয়সে বড় কর্মীদের একটি অংশের কাছে আরেক দফা প্রযুক্তিগত বদলের মানসিক খরচ এখন চাকরিতে থাকার লাভের চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে।

এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত রূপান্তরকে অনেক সময় ভবিষ্যতের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। যেন একদিন বড় অটোমেশন এসে চাকরির কাঠামো বদলে দেবে। বাস্তবে মানুষ এখনই নিজেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ার নোটিশের অপেক্ষা করে না। নতুন সফটওয়্যার, বদলে যাওয়া কাজের প্রত্যাশা, অচেনা মূল্যায়ন-পদ্ধতি, আর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা হঠাৎ কম মূল্যবান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা—এসবই আগে কাজ করে।

অবসরের কাছাকাছি থাকা অনেক কর্মীর জন্য হিসাবটি খুব বাস্তব। নতুন কিছু শেখা শুধু দক্ষতার প্রশ্ন নয়; এটি পরিচয়, শক্তি এবং মানসিক প্রস্তুতিরও প্রশ্ন। একজন কর্মকর্তা বা বিশেষজ্ঞ জীবনে বহু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। কিন্তু বারবার ডিজিটাল রূপান্তরের ঢেউ এলে ক্লান্তি জমে। বিশেষ করে যখন নতুন পরিবর্তনটি অতিরঞ্জিত ভাষায়, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেখিয়ে, দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চাপ নিয়ে আসে। তখন কেউ কেউ ভাবেন, এখন সরে দাঁড়ানোই হয়তো ভালো।

The Workers Opting to Retire Instead of Taking on AI - WSJ

সব অবসরই পরাজয় নয়

এই সিদ্ধান্তকে সরলভাবে ব্যর্থতা বলা ঠিক হবে না। অনেক ক্ষেত্রে অবসর নেওয়া নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার একটি উপায়। নতুন মানদণ্ডে নিজেকে বারবার প্রমাণের চাপে না গিয়ে কর্মীরা নিজস্ব শর্তে বিদায় নেন। কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য এটিও সুবিধাজনক হতে পারে, কারণ এতে সরাসরি ছাঁটাই ছাড়াই কর্মীসংখ্যা ও কাঠামো বদলানো সহজ হয়। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালে ক্ষতিও রয়েছে। অভিজ্ঞ কর্মীরা চলে গেলে সঙ্গে করে নিয়ে যান প্রতিষ্ঠানগত স্মৃতি, কাজ শেখানোর ক্ষমতা এবং ক্ষেত্রভিত্তিক গভীর জ্ঞান।

এটি এআই উৎপাদনশীলতা-বিতর্ককেও জটিল করে। কেবল নতুন টুল আনা মানেই উৎপাদনশীলতা বাড়বে না, যদি প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞ জনবল দ্রুত হারায়। জ্ঞান হস্তান্তর দুর্বল হয়। টিমের সংস্কৃতি বদলে যায়। তরুণ কর্মীরা দ্রুত সুযোগ পেলেও তাদের ওপর দায়িত্বও বাড়ে, অথচ কর্মক্ষেত্র তখনো নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। ফলে পরিবর্তনটি একই সঙ্গে গতিশীল এবং অস্থির মনে হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত এআই অর্থনীতির একটি মানবিক দিক এখানে স্পষ্ট হয়। প্রযুক্তি গ্রহণের প্রশ্ন শুধু টুল কী করতে পারে তা নয়; বরং কে নিজেকে এর ভেতরে দেখতে পাচ্ছে, কে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, আর কে মনে করছে আরেক দফা বড় পরিবর্তনের মধ্যে যাওয়ার দরকার নেই। যদি এআইয়ের নীরব প্রভাবগুলোর একটি হয়ে ওঠে আগাম অবসর, তবে প্রতিষ্ঠানেরও ভাবতে হবে—তারা কি সত্যিই দক্ষতর কর্মীবাহিনী গড়ে তুলছে, নাকি অজান্তেই এক প্রজন্মকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা

এআইয়ের চাপে কিছু কর্মী পুনঃপ্রশিক্ষণের বদলে অবসর বেছে নিচ্ছেন

০৯:০০:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

কর্মক্ষেত্রে নীরব এক সংকেত

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কিছু কর্মী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর নতুন কাজের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার বদলে অবসরকে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করছেন। এর মানে এই নয় যে এআই সঙ্গে সঙ্গে বিশাল শ্রমবাজার সংকট তৈরি করেছে। তবে এটি দেখায়, বিশেষ করে বয়সে বড় কর্মীদের একটি অংশের কাছে আরেক দফা প্রযুক্তিগত বদলের মানসিক খরচ এখন চাকরিতে থাকার লাভের চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে।

এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত রূপান্তরকে অনেক সময় ভবিষ্যতের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। যেন একদিন বড় অটোমেশন এসে চাকরির কাঠামো বদলে দেবে। বাস্তবে মানুষ এখনই নিজেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ার নোটিশের অপেক্ষা করে না। নতুন সফটওয়্যার, বদলে যাওয়া কাজের প্রত্যাশা, অচেনা মূল্যায়ন-পদ্ধতি, আর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা হঠাৎ কম মূল্যবান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা—এসবই আগে কাজ করে।

অবসরের কাছাকাছি থাকা অনেক কর্মীর জন্য হিসাবটি খুব বাস্তব। নতুন কিছু শেখা শুধু দক্ষতার প্রশ্ন নয়; এটি পরিচয়, শক্তি এবং মানসিক প্রস্তুতিরও প্রশ্ন। একজন কর্মকর্তা বা বিশেষজ্ঞ জীবনে বহু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। কিন্তু বারবার ডিজিটাল রূপান্তরের ঢেউ এলে ক্লান্তি জমে। বিশেষ করে যখন নতুন পরিবর্তনটি অতিরঞ্জিত ভাষায়, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেখিয়ে, দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চাপ নিয়ে আসে। তখন কেউ কেউ ভাবেন, এখন সরে দাঁড়ানোই হয়তো ভালো।

The Workers Opting to Retire Instead of Taking on AI - WSJ

সব অবসরই পরাজয় নয়

এই সিদ্ধান্তকে সরলভাবে ব্যর্থতা বলা ঠিক হবে না। অনেক ক্ষেত্রে অবসর নেওয়া নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার একটি উপায়। নতুন মানদণ্ডে নিজেকে বারবার প্রমাণের চাপে না গিয়ে কর্মীরা নিজস্ব শর্তে বিদায় নেন। কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য এটিও সুবিধাজনক হতে পারে, কারণ এতে সরাসরি ছাঁটাই ছাড়াই কর্মীসংখ্যা ও কাঠামো বদলানো সহজ হয়। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালে ক্ষতিও রয়েছে। অভিজ্ঞ কর্মীরা চলে গেলে সঙ্গে করে নিয়ে যান প্রতিষ্ঠানগত স্মৃতি, কাজ শেখানোর ক্ষমতা এবং ক্ষেত্রভিত্তিক গভীর জ্ঞান।

এটি এআই উৎপাদনশীলতা-বিতর্ককেও জটিল করে। কেবল নতুন টুল আনা মানেই উৎপাদনশীলতা বাড়বে না, যদি প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞ জনবল দ্রুত হারায়। জ্ঞান হস্তান্তর দুর্বল হয়। টিমের সংস্কৃতি বদলে যায়। তরুণ কর্মীরা দ্রুত সুযোগ পেলেও তাদের ওপর দায়িত্বও বাড়ে, অথচ কর্মক্ষেত্র তখনো নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। ফলে পরিবর্তনটি একই সঙ্গে গতিশীল এবং অস্থির মনে হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত এআই অর্থনীতির একটি মানবিক দিক এখানে স্পষ্ট হয়। প্রযুক্তি গ্রহণের প্রশ্ন শুধু টুল কী করতে পারে তা নয়; বরং কে নিজেকে এর ভেতরে দেখতে পাচ্ছে, কে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, আর কে মনে করছে আরেক দফা বড় পরিবর্তনের মধ্যে যাওয়ার দরকার নেই। যদি এআইয়ের নীরব প্রভাবগুলোর একটি হয়ে ওঠে আগাম অবসর, তবে প্রতিষ্ঠানেরও ভাবতে হবে—তারা কি সত্যিই দক্ষতর কর্মীবাহিনী গড়ে তুলছে, নাকি অজান্তেই এক প্রজন্মকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছে।