ডিএপিএফসিএল বন্ধের শঙ্কা
চট্টগ্রামের ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) অচিরেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারখানার কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে যদি কাঁচামাল অ্যামোনিয়া সরবরাহ নিশ্চিত না করা যায়, তবে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আলমগীর জলিল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “কারখানার অ্যামোনিয়ার মজুত শেষ হওয়ার পথে। যে পরিমাণ আছে, তা দিয়ে মাত্র ১০ দিনের উৎপাদন চালানো সম্ভব।”
অ্যামোনিয়ার সরবরাহের সংকট
ডিএপিএফসিএল মূলত চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে অ্যামোনিয়া পায়। কিন্তু উল্লিখিত দুটি কারখানা ইতোমধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে। ফলে, ডিএপিএফসিএলের জন্য অ্যামোনিয়া সরবরাহও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
আলমগীর জলিল আরও বলেন, “আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই দুটি কারখানা যদি চালু না হয় এবং অ্যামোনিয়া সরবরাহ শুরু না করে, তাহলে আমাদের পক্ষে উৎপাদন চালানো সম্ভব হবে না।”
দেশের সার উৎপাদনে ডিএপিএফসিএলের ভূমিকা
ডিএপিএফসিএল দেশের কৃষি খাতে সুষম সারের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সমৃদ্ধ যৌগিক সার উৎপাদনের চাহিদা মেটানোর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসির তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় প্রতিষ্ঠিত কারখানার দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) দৈনিক ৮০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন সক্ষম। ২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া কারখানাটি বর্তমানে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করছে।
বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপট
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গ্যাস সংকটের কারণে ইতোমধ্যেই সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে, ডিএপিএফসিএলও অ্যামোনিয়া সংকটে উৎপাদন বন্ধের মুখে পড়েছে। কৃষি খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বাজারে সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















