দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগের একটি বড় ভুলকে কাজে লাগিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবার আগে জায়গা নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। বৃহস্পতিবার গুয়াদালাহারার এস্তাদিও আক্রনে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় স্বাগতিক দল।
নিজেদের মাঠে উচ্ছ্বসিত দর্শকদের সামনে এই জয় মেক্সিকোর জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলটি এবার ঘরের মাঠে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন দেখাচ্ছে। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের অভিনন্দন জানান, আর গ্যালারিতে চলে উৎসবমুখর উদযাপন।
ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রোমোর গোল
ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ৫০তম মিনিটে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সেউং-গ্যু নিজের ডিফেন্ডার লি গি-হিউকের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বল হাতছাড়া করেন। বক্সের ভেতরে পড়ে থাকা বল পেয়ে সহজেই জালে পাঠান লুইস রোমো।
প্রথমার্ধে দুই দলই তেমন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি। গোলের সুযোগও ছিল খুব কম। ফলে বিরতিতে যাওয়ার সময় দর্শকদের অসন্তোষও শোনা যায়।
র্যাঙ্গেলের দুর্দান্ত সেভে বাঁচে মেক্সিকো
ম্যাচের শেষদিকে দক্ষিণ কোরিয়া সমতায় ফেরার একাধিক সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে ৮৭তম মিনিটে চো গুয়ে-সুংয়ের কাছ থেকে আসা হেড ঠেকিয়ে দেন মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল র্যাঙ্গেল। এরপর রিবাউন্ডে ইয়াং হিউন-জুনের শটও অবিশ্বাস্যভাবে প্রতিহত করেন তিনি। তার সেই সেভই কার্যত নিশ্চিত করে দেয় মেক্সিকোর জয়।
মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগিরে ম্যাচ শেষে বলেন, প্রতিপক্ষ তাদের খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি। তবুও দলের খেলোয়াড়রা সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় নিশ্চিত করতে পেরেছেন।
গ্রুপে শীর্ষে মেক্সিকো
দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। দক্ষিণ কোরিয়ার সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র করায় তাদের পয়েন্ট মাত্র ১।
নতুন ৪৮ দলের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৩২ দলের নকআউট পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল পরবর্তী রাউন্ডে উঠবে।
সন হিউং-মিনের হতাশার দিন
দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় তারকা সন হিউং-মিন আবারও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ৫৭তম মিনিটে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। তিনটি আগের বিশ্বকাপে তিন গোল করা এই ফরোয়ার্ড এবার দেশের সর্বকালের বিশ্বকাপ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে খেলছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিয়ুং-বো ম্যাচ শেষে স্বীকার করেন, দলের করা ভুলটিই তাদের জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে এনেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
মেক্সিকোর জন্য এই জয় আরেকটি কারণে স্মরণীয়। মেক্সিকো সিটির বাইরে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ জয়ের ঘটনা এর আগে ঘটেনি। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে তাদের অধিকাংশ ম্যাচই হয়েছিল এস্তাদিও আজতেকায়। এবার গুয়াদালাহারায় সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
৪৫ হাজারের বেশি দর্শকে পূর্ণ ছিল প্রায় পুরো স্টেডিয়াম। ৪৫,৬৬৪ ধারণক্ষমতার মাঠে উপস্থিতি ছিল ৪৫,৫২২ জন, যা স্বাগতিকদের জয়ে বাড়তি প্রেরণা জুগিয়েছে।
মেক্সিকো এখন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
#বিশ্বকাপ২০২৬ #মেক্সিকো #দক্ষিণকোরিয়া #ফুটবল #ওয়ার্ল্ডকাপ #LuisRomo #RaulRangel #MexicoFootball #FIFAWorldCup #SportsNews
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















