প্রায় তিন মাস ধরে প্রতিদিন একটির বেশি আল্ট্রাম্যারাথন দৌড়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন স্যাম কিং। মায়ের স্মৃতিকে শক্তি করে তিনি ৭৪ দিনের লক্ষ্য ছুঁয়ে থামেননি, বরং ৮০ দিনে ৮০টি আল্ট্রাম্যারাথন সম্পন্ন করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।
অভিযানের পেছনের গল্প
স্যাম কিং এই চ্যালেঞ্জ শুরু করেছিলেন তার মায়ের জীবনের প্রতিটি বছরের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে। মায়ের গুরুতর মস্তিষ্কজনিত অসুস্থতার পর এই উদ্যোগ তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। সেই আবেগই তাকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কিলোমিটার দৌড়ানোর শক্তি দিয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রায় তিনি প্রায় আড়াই হাজার মাইল অতিক্রম করেন এবং একটি মানবিক উদ্যোগের জন্য বড় অঙ্কের অর্থও সংগ্রহ করেন।

মানসিক শক্তিই আসল
স্যামের মতে, এমন চরম চ্যালেঞ্জে শরীরের চেয়ে মনই বড় ভূমিকা রাখে। প্রথম দুই থেকে তিন সপ্তাহ ছিল সবচেয়ে কঠিন, কিন্তু পরে শরীর ধীরে ধীরে মানিয়ে নেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা যায়, তবে শরীরও অসাধারণ সক্ষমতা দেখাতে পারে।
প্রতিদিনের কঠোর রুটিন
প্রতিদিন সকালে নির্দিষ্ট সময়ের আগে উঠে প্রস্তুতি নিতেন স্যাম। ছোট ছোট খাবার খেয়ে শক্তি ধরে রাখা ছিল তার কৌশল। দিনের মধ্যে তিন ধাপে দৌড় সম্পন্ন করতেন, যাতে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম ও খাবার নেওয়া যায়। দৌড় শেষে পুনরুদ্ধার, বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত ঘুম ছিল বাধ্যতামূলক।
ক্লান্তি ও চোট সামলানোর লড়াই
এত দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিদিন দৌড়ানোয় চোটের ঝুঁকি ছিল সবসময়। তাই তিনি সমতল রাস্তা বেছে নেন, জুতা পরিবর্তন করেন নিয়মিত এবং শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেন। শুরুর দিকে পায়ের একটি সমস্যা তাকে প্রায় থামিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু ধৈর্য ধরে সেটিও সামলে ওঠেন।

খাবার ও শক্তির লড়াই
প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করতে হতো তাকে। শুরুতে পরিকল্পনা মেনে চললেও পরে যা সহ্য হয়, সেটাই খেতে হয়েছে। তবুও দীর্ঘ যাত্রায় তার ওজন কমে যায় প্রায় নয় কেজি।
অনুপ্রেরণার মূলমন্ত্র
স্যামের মূল বিশ্বাস, যে কাজ ভালোবাসা যায় না, সেখানে সফল হওয়া কঠিন। তাই তিনি বলেন, যেকোনো লক্ষ্য অর্জনের আগে সেই কাজের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে হবে। ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেলে সফলতা আসবেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















