২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেছে। ট্রাইব্যুনাল সাবেক সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। এ ছাড়া তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পাঁচজনকে দশ বছর, আটজনকে পাঁচ বছর এবং এগারো জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে যাদের নাম উঠে এসেছে
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি পমেল বড়ুয়া এবং সাবেক আরএমপি কমিশনার মনিরুজ্জামানসহ আরও কয়েকজনকে দশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ছাত্র আন্দোলনের সময় ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতীকী ছবিতে পরিণত হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ২৪ জুন এই মামলায় চার্জশিট দাখিল করে। একই বছরের ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল সাবেক উপাচার্যসহ ত্রিশ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়। এরপর গত ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে। এই রায় জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের জন্য বিচারিক স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















