০৩:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান, নিখোঁজ প্রায় ৫০ হাজার হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা এসকর্ট কার্যক্রম স্থগিত শি: বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চমানের বিআরআই সহযোগিতায় প্রস্তুত চীন গুদগুদিতে হাসে মানুষ ও বনমানুষ, মিলল হাসির বিবর্তনের ছন্দময় সূত্র ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড জনজীবন, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা বাগেরহাটে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার: দুই মাসে হাসপাতালে ২০০-এর বেশি রোগী, রেড জোন ঘোষণা শেষ মুহূর্তের গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারাল তুরস্ক, তবু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মার্কিনিরাই ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি

মুরগির রেকর্ড দামে অস্বস্তি: বাজারে চাপ বাড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে

রাজধানীর বাজারে হঠাৎ করেই মুরগির দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সোনালি মুরগির দাম গত এক মাসে কেজিতে সর্বোচ্চ ১৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

দাম বাড়ার পেছনের কারণ কী
ব্যবসায়ীদের মতে, বিভিন্ন এলাকায় ভাইরাস সংক্রমণ, বিশেষ করে বার্ড ফ্লুর প্রভাব পড়েছে খামারগুলোতে। এতে মুরগির মৃত্যুহার বেড়েছে এবং সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি মুরগির খাবার ও ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক খামারি লোকসানে পড়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

এছাড়া পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াও দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বাজারে বর্তমান দামের চিত্র
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সোনালি ও দেশি মুরগির দাম অনেক বেড়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকায়, আর দেশি মুরগির দাম ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে।

অন্য সময়ের তুলনায় সোনালি মুরগির দামই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। আগে যেখানে এই মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ৪০০ টাকার সীমা ছাড়িয়ে গেছে, যা ব্যবসায়ীরা ‘রেকর্ড’ দাম হিসেবে দেখছেন।

চাহিদা বাড়া ও সরবরাহ সংকট
ঈদের পর বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় মুরগির চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে খামার থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সোনালি মুরগির সরবরাহ সবচেয়ে বেশি কমেছে, যার ফলে দাম দ্রুত বেড়েছে।

ক্রেতাদের ভোগান্তি
দাম বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকের জন্য গরুর মাংস কেনা আগেই কঠিন ছিল, এখন বিকল্প হিসেবে সোনালি মুরগিও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে পরিবারের খাদ্য ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তারা বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ডিমের বাজারেও প্রভাব
শুধু মুরগিই নয়, ডিমের দামও বেড়েছে। রমজানে তুলনামূলক কম থাকলেও বর্তমানে ডজনপ্রতি ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা বাড়ার কারণে ডিমের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান, নিখোঁজ প্রায় ৫০ হাজার

মুরগির রেকর্ড দামে অস্বস্তি: বাজারে চাপ বাড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে

০৬:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর বাজারে হঠাৎ করেই মুরগির দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সোনালি মুরগির দাম গত এক মাসে কেজিতে সর্বোচ্চ ১৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

দাম বাড়ার পেছনের কারণ কী
ব্যবসায়ীদের মতে, বিভিন্ন এলাকায় ভাইরাস সংক্রমণ, বিশেষ করে বার্ড ফ্লুর প্রভাব পড়েছে খামারগুলোতে। এতে মুরগির মৃত্যুহার বেড়েছে এবং সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি মুরগির খাবার ও ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক খামারি লোকসানে পড়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

এছাড়া পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াও দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বাজারে বর্তমান দামের চিত্র
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সোনালি ও দেশি মুরগির দাম অনেক বেড়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকায়, আর দেশি মুরগির দাম ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে।

অন্য সময়ের তুলনায় সোনালি মুরগির দামই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। আগে যেখানে এই মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ৪০০ টাকার সীমা ছাড়িয়ে গেছে, যা ব্যবসায়ীরা ‘রেকর্ড’ দাম হিসেবে দেখছেন।

চাহিদা বাড়া ও সরবরাহ সংকট
ঈদের পর বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় মুরগির চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে খামার থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সোনালি মুরগির সরবরাহ সবচেয়ে বেশি কমেছে, যার ফলে দাম দ্রুত বেড়েছে।

ক্রেতাদের ভোগান্তি
দাম বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকের জন্য গরুর মাংস কেনা আগেই কঠিন ছিল, এখন বিকল্প হিসেবে সোনালি মুরগিও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে পরিবারের খাদ্য ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তারা বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ডিমের বাজারেও প্রভাব
শুধু মুরগিই নয়, ডিমের দামও বেড়েছে। রমজানে তুলনামূলক কম থাকলেও বর্তমানে ডজনপ্রতি ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা বাড়ার কারণে ডিমের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।