০৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ রাশিয়ায় নোবেলজয়ী মানবাধিকার সংগঠন ‘মেমোরিয়াল’কে ‘চরমপন্থী’ ঘোষণা “চাবিটি হারিয়ে গেছে” হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি কৌশলগত চাপ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সামনে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম পোপাইসের বেইজিংয়ে প্রত্যাবর্তন, ২৪ বছর পর নতুন করে চীনা বাজারে জোরালো উপস্থিতি ট্রাম্পের ‘আনুগত্য পরীক্ষা’ কি ন্যাটোর ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে? কুষ্টিয়ার স্কুলে অচেতন অবস্থায় ছাত্রী উদ্ধার, যৌন নির্যাতনের আশঙ্কা শি–চেং বৈঠকে নতুন সমীকরণ, তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত

সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্ট শেষ: ভারতে স্থূলতা চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

ভারতে স্থূলতা ও বিপাকজনিত রোগ দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জিএলপি-১ ধরনের ওষুধ নতুন আশার আলো হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্ট শেষ হওয়ায় এই ওষুধ এখন তুলনামূলক সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে, ফলে আরও বেশি মানুষের নাগালে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, এটি কোনো শর্টকাট নয়—জীবনযাত্রার পরিবর্তনের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে না।

নতুন আশার গল্প

রাকেশ নামে এক রোগীর উদাহরণ এই পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে বসতে বা গাড়ি চালাতেও পারতেন না। দীর্ঘদিনের ব্যর্থ ডায়েট ও ব্যায়ামের পর হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু জিএলপি-১ থেরাপি শুরু করার পর নয় মাসে তিনি ৩৭ কেজি ওজন কমান। শুধু ওজনই নয়, তার আত্মবিশ্বাস, দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং শারীরিক সক্ষমতাও উন্নত হয়।

চিকিৎসকদের মতে, এই ওষুধ কেবল ওজন কমায় না—এটি শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, লিভারের চর্বি কমায় এবং কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ভারতের প্রেক্ষাপট

India's weight-loss drugs to get cheaper as semaglutide patent expires -  The Economic Times

ভারতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার হার দ্রুত বাড়ছে। এর পেছনে রয়েছে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং অলস জীবনযাপন।

ভারতীয়দের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বিষয় হলো ‘থিন-ফ্যাট’ বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে বেশি মোটা না দেখালেও শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হয়। ফলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

এই অবস্থায় লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা হিসেবে জিএলপি-১ থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে যাদের ইনসুলিন প্রতিরোধ বেশি।

পেটেন্ট শেষ, কমলো দাম

সম্প্রতি সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্ট শেষ হওয়ায় ভারতে ৫০টিরও বেশি কোম্পানি এই ওষুধ বাজারে এনেছে। আগে যেখানে মাসে ১১ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তা কমে প্রায় ৫ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

এর ফলে চিকিৎসার অন্যতম বড় বাধা—উচ্চ খরচ—অনেকটাই কমে গেছে, এবং সাধারণ মানুষের জন্য এটি আরও সহজলভ্য হয়েছে।

কারা ব্যবহার করতে পারবেন

এই ওষুধের নির্দিষ্ট ব্যবহারবিধি রয়েছে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি ব্যবহারযোগ্য।

ডায়াবেটিস না থাকলেও যাদের দেহের ভর সূচক ২৭-এর বেশি এবং স্থূলতা-সম্পর্কিত সমস্যা রয়েছে, অথবা যাদের ভর সূচক ৩০-এর বেশি, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

তবে এটি কোনো সৌন্দর্য বৃদ্ধির দ্রুত উপায় নয় এবং হালকাভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

Rs 10,000-crore opportunity: Sun Pharma, Lupin, Torrent to lead 2026  weight-loss market as Ozempic patent expires - Industry News | The  Financial Express

কীভাবে কাজ করে

এই ওষুধ শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে কাজ করে। এটি ক্ষুধা কমায়, খাবার হজমের গতি ধীর করে এবং ফলে কম খাওয়ার মাধ্যমে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

সাধারণভাবে একজন রোগী তার মোট ওজনের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারেন, তবে ফলাফল ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

এই ওষুধ ব্যবহারে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, ঢেঁকুর বা ডায়রিয়া। তবে এগুলো সাধারণত সাময়িক এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কমে যায়।

দুর্লভ ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বা থাইরয়েডজনিত সমস্যার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এই ওষুধ ব্যবহার করা জরুরি।

চিকিৎসা বন্ধ করলে কী হয়

ওজন কমানোর জন্য যদি কেউ ডায়েট ও ব্যায়াম বন্ধ করে দেন, তাহলে যেমন ওজন আবার বাড়ে, তেমনি এই ওষুধ বন্ধ করলেও কিছুটা ওজন ফিরে আসতে পারে।

এতে বোঝা যায়, স্থূলতা একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, যার জন্য ধারাবাহিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন প্রয়োজন।

The Role Of Diet Exercise And Medication For Weight Management

জীবনযাত্রার পরিবর্তনই মূল

চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলছেন, এই ওষুধ কখনোই ডায়েট ও ব্যায়ামের বিকল্প নয়। বরং এটি একটি সহায়ক মাধ্যম।

ওজন কমানোর সময় পেশি ক্ষয় রোধ করতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ও শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক খাদ্য ও ব্যায়ামের সঙ্গে এই ওষুধ ব্যবহার করলে চর্বি কমে, তবে পেশি স্থিতিশীল থাকে।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

ভারতে তরুণদের মধ্যেও স্থূলতা দ্রুত বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় সংকেত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু ওষুধ নয়, খাদ্যনীতি পরিবর্তন, প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো এবং শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানোর মতো উদ্যোগ প্রয়োজন।

জিএলপি-১ ওষুধ চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে দিলেও, এটি কতটা জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নির্ভর করবে আমাদের বর্তমান পদক্ষেপের ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা

সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্ট শেষ: ভারতে স্থূলতা চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

০৭:২১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

ভারতে স্থূলতা ও বিপাকজনিত রোগ দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জিএলপি-১ ধরনের ওষুধ নতুন আশার আলো হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্ট শেষ হওয়ায় এই ওষুধ এখন তুলনামূলক সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে, ফলে আরও বেশি মানুষের নাগালে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, এটি কোনো শর্টকাট নয়—জীবনযাত্রার পরিবর্তনের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে না।

নতুন আশার গল্প

রাকেশ নামে এক রোগীর উদাহরণ এই পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে বসতে বা গাড়ি চালাতেও পারতেন না। দীর্ঘদিনের ব্যর্থ ডায়েট ও ব্যায়ামের পর হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু জিএলপি-১ থেরাপি শুরু করার পর নয় মাসে তিনি ৩৭ কেজি ওজন কমান। শুধু ওজনই নয়, তার আত্মবিশ্বাস, দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং শারীরিক সক্ষমতাও উন্নত হয়।

চিকিৎসকদের মতে, এই ওষুধ কেবল ওজন কমায় না—এটি শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, লিভারের চর্বি কমায় এবং কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ভারতের প্রেক্ষাপট

India's weight-loss drugs to get cheaper as semaglutide patent expires -  The Economic Times

ভারতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার হার দ্রুত বাড়ছে। এর পেছনে রয়েছে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং অলস জীবনযাপন।

ভারতীয়দের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বিষয় হলো ‘থিন-ফ্যাট’ বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে বেশি মোটা না দেখালেও শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হয়। ফলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

এই অবস্থায় লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা হিসেবে জিএলপি-১ থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে যাদের ইনসুলিন প্রতিরোধ বেশি।

পেটেন্ট শেষ, কমলো দাম

সম্প্রতি সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্ট শেষ হওয়ায় ভারতে ৫০টিরও বেশি কোম্পানি এই ওষুধ বাজারে এনেছে। আগে যেখানে মাসে ১১ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তা কমে প্রায় ৫ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

এর ফলে চিকিৎসার অন্যতম বড় বাধা—উচ্চ খরচ—অনেকটাই কমে গেছে, এবং সাধারণ মানুষের জন্য এটি আরও সহজলভ্য হয়েছে।

কারা ব্যবহার করতে পারবেন

এই ওষুধের নির্দিষ্ট ব্যবহারবিধি রয়েছে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি ব্যবহারযোগ্য।

ডায়াবেটিস না থাকলেও যাদের দেহের ভর সূচক ২৭-এর বেশি এবং স্থূলতা-সম্পর্কিত সমস্যা রয়েছে, অথবা যাদের ভর সূচক ৩০-এর বেশি, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

তবে এটি কোনো সৌন্দর্য বৃদ্ধির দ্রুত উপায় নয় এবং হালকাভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

Rs 10,000-crore opportunity: Sun Pharma, Lupin, Torrent to lead 2026  weight-loss market as Ozempic patent expires - Industry News | The  Financial Express

কীভাবে কাজ করে

এই ওষুধ শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে কাজ করে। এটি ক্ষুধা কমায়, খাবার হজমের গতি ধীর করে এবং ফলে কম খাওয়ার মাধ্যমে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

সাধারণভাবে একজন রোগী তার মোট ওজনের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারেন, তবে ফলাফল ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

এই ওষুধ ব্যবহারে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, ঢেঁকুর বা ডায়রিয়া। তবে এগুলো সাধারণত সাময়িক এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কমে যায়।

দুর্লভ ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বা থাইরয়েডজনিত সমস্যার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এই ওষুধ ব্যবহার করা জরুরি।

চিকিৎসা বন্ধ করলে কী হয়

ওজন কমানোর জন্য যদি কেউ ডায়েট ও ব্যায়াম বন্ধ করে দেন, তাহলে যেমন ওজন আবার বাড়ে, তেমনি এই ওষুধ বন্ধ করলেও কিছুটা ওজন ফিরে আসতে পারে।

এতে বোঝা যায়, স্থূলতা একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, যার জন্য ধারাবাহিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন প্রয়োজন।

The Role Of Diet Exercise And Medication For Weight Management

জীবনযাত্রার পরিবর্তনই মূল

চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলছেন, এই ওষুধ কখনোই ডায়েট ও ব্যায়ামের বিকল্প নয়। বরং এটি একটি সহায়ক মাধ্যম।

ওজন কমানোর সময় পেশি ক্ষয় রোধ করতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ও শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক খাদ্য ও ব্যায়ামের সঙ্গে এই ওষুধ ব্যবহার করলে চর্বি কমে, তবে পেশি স্থিতিশীল থাকে।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

ভারতে তরুণদের মধ্যেও স্থূলতা দ্রুত বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় সংকেত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু ওষুধ নয়, খাদ্যনীতি পরিবর্তন, প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো এবং শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানোর মতো উদ্যোগ প্রয়োজন।

জিএলপি-১ ওষুধ চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে দিলেও, এটি কতটা জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নির্ভর করবে আমাদের বর্তমান পদক্ষেপের ওপর।