যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত নিয়ে কঠোর আইন থাকা রাজ্যগুলোতে নারীরা এখন আগের মতো অন্য রাজ্যে গিয়ে চিকিৎসা না নিয়ে বরং অনলাইনের মাধ্যমে প্রেসক্রিপশন নিয়ে গর্ভপাতের ওষুধ ব্যবহার করছেন—এমনটাই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। সারাক্ষণ রিপোর্ট
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে গর্ভপাত নিষিদ্ধ ১৩টি রাজ্যে প্রায় ৯১ হাজার নারী টেলিহেলথের মাধ্যমে গর্ভপাতের ওষুধের প্রেসক্রিপশন পেয়েছেন। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে সে বছর প্রেসক্রিপশনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭২ হাজার।
অন্যদিকে, গর্ভপাতের জন্য এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ভ্রমণ করার প্রবণতা কমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ৭৪ হাজার নারী ভ্রমণ করেছিলেন, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২ হাজারে।
সারা দেশে গর্ভপাতের জন্য ভ্রমণের সংখ্যা আরও বড় পরিসরে কমেছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার, যা ২০২৫ সালে নেমে এসেছে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজারে। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার।

গবেষণার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গর্ভপাত নিষিদ্ধ রাজ্যগুলোর মানুষ এখন চিকিৎসা পাওয়ার পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছেন। তারা আগের মতো দূরদূরান্তে না গিয়ে সহজে অনলাইনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আইনগত সুরক্ষা ও পরিবর্তনের প্রভাব
এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে কিছু রাজ্যের বিশেষ আইনি সুরক্ষা। এসব আইনের ফলে চিকিৎসকরা এমন রাজ্য থেকেও গর্ভপাতের ওষুধ দিতে পারেন, যেখানে এই প্রক্রিয়া নিষিদ্ধ। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, ম্যাসাচুসেটস, মেইন, নিউইয়র্ক, রোড আইল্যান্ড, ভারমন্ট ও ওয়াশিংটন—এই আটটি রাজ্যে এমন সুরক্ষা আইন রয়েছে।
সার্বিক চিত্রে গর্ভপাতের হার
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট গর্ভপাতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ লাখ ২০ হাজার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত। এটি ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
২০২২ সালে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত গর্ভপাতের ফেডারেল সুরক্ষা বাতিল করার পর থেকে ১৩টি রাজ্যে প্রায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং আরও ৬টি রাজ্যে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে নারীদের গর্ভপাতের সুযোগ ও পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















