সিঙ্গাপুরের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে কম শারীরিক ব্যায়াম ও বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রবণতা লক্ষ্য করে সেখানে নতুন এক দ্রুত হাঁটা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য, সাধারণ মানুষকে সহজ উপায়ে নিয়মিত ব্যায়ামে অভ্যস্ত করা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উন্নত করা।
উত্তরাঞ্চলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কেন বেশি
স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের হার তুলনামূলক বেশি। একই সঙ্গে তাদের সাপ্তাহিক শারীরিক কার্যক্রমের সময়ও কম। যেখানে জাতীয় গড় সাপ্তাহিক ব্যায়ামের সময় প্রায় ১২০ মিনিট, সেখানে উত্তরাঞ্চলে তা মাত্র ১০০ মিনিটের মতো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করা প্রয়োজন। এই ঘাটতি পূরণ করতেই নতুন উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।

দ্রুত হাঁটা কর্মসূচির সূচনা
উত্তরাঞ্চলের সেমবাওয়াং এলাকায় বড় পরিসরে দ্রুত হাঁটা কার্যক্রম দিয়ে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রায় ৫০০ বাসিন্দা এতে অংশ নেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয়দের নিয়ে হাঁটার দল গঠন করা হচ্ছে, যাতে নিয়মিত ব্যায়ামকে অভ্যাসে পরিণত করা যায়।
এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় সাতটি হাঁটা দল গঠিত হয়েছে, যেখানে সদস্য সংখ্যা ২৮০ জনের বেশি। এর মধ্যে নতুন যোগ হয়েছে আরও দুটি দল।
প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎসাহ
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি স্বাস্থ্য-ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপে নতুন কিছু সুবিধা যোগ করা হচ্ছে। এতে ব্যবহারকারীরা সহজে পার্ক, হাঁটার পথ ও ব্যায়ামস্থল খুঁজে পেতে পারবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে চেক-ইন করলে পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকবে।
বিশেষ করে যারা আগে তেমন ব্যায়াম করতেন না, তাদের জন্য বাড়তি পয়েন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব পয়েন্ট ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা ও পণ্যের সুবিধা নিতে পারবেন। এতে মানুষকে আরও সক্রিয় হতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

জীবনযাপনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ইতোমধ্যেই এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। অনেকেই জানিয়েছেন, আগে তারা বেশিরভাগ সময় বসে কাটালেও এখন নিয়মিত হাঁটছেন এবং এতে দৈনন্দিন জীবনে শক্তি ও স্বস্তি পাচ্ছেন।
এই উদ্যোগ সফল হলে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য একটাই—হাঁটা যেন সবার দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।
উত্তরাঞ্চলের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, ছোট একটি অভ্যাস পরিবর্তনই বড় স্বাস্থ্য পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















