০২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভূগোলের নিরাপত্তাবলয় ভেঙে পড়ছে, যুক্তরাষ্ট্র কি নতুন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত? রাজনীতিতে ধর্মীয় সংগঠনের হস্তক্ষেপ কি সত্যিই অপরাধ? রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’ কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, ফেরার অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ অস্ত্রের মুখে বিকাশকর্মীর ৩ লাখ টাকা ছিনতাই, পালাল ৬ দুর্বৃত্ত নেপালে বন্যার তাণ্ডব: ‘নিখোঁজদের দেয়ালে’ স্বজন খুঁজছেন হাজারো মানুষ ভারতের ৭.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন? নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ

ইরান যুদ্ধের তেল ধাক্কা: দামে যা দেখা যাচ্ছে, বাস্তব সংকট তার চেয়েও ভয়াবহ

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা তৈরি করেছে। বাইরে থেকে তেলের দাম যতটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি সংকটপূর্ণ। বাজারের দুই ধরনের দামের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান এখন বিশ্লেষকদেরও ভাবিয়ে তুলেছে।

দাম এক, বাস্তবতা আরেক

সাধারণভাবে মানুষ যে তেলের দাম দেখে, তা মূলত ভবিষ্যৎ বাজারের হিসাব। এই দাম দেখলে মনে হতে পারে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। উদাহরণ হিসেবে, ইউরোপীয় বাজারে ব্রেন্ট তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলার, যা আগের বড় সংকটের সময়ের তুলনায় কম।

Thailand, Vietnam push remote work to save energy

কিন্তু বাস্তবে, যদি এখনই তেল কিনে সরাসরি সরবরাহ নিতে হয়, তাহলে খরচ অনেক বেশি। সরাসরি সরবরাহ বা স্পট বাজারে সেই দাম প্রায় ১৪৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বিশাল ব্যবধানই ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাজারের প্রকৃত চিত্র অনেক বেশি চাপের।

ফিউচার ও স্পট বাজারের বিভ্রান্তি

তেলের বাজারে সাধারণত দুই ধরনের দাম থাকে—একটি ভবিষ্যতের জন্য নির্ধারিত, আরেকটি তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য। এই দুই দামের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যৎ বাজার এখন বাস্তব পরিস্থিতিকে ঠিকভাবে প্রতিফলিত করছে না। ফলে বাজার বিশ্লেষণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরবরাহে বড় ধাক্কা

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ বা তার বেশি অংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে তেলবাহী জাহাজ চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ।

এই কারণে বিপুল পরিমাণ তেল পারস্য উপসাগরেই আটকে আছে। জাহাজ কোম্পানিগুলো এখনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না।

বিশ্বজুড়ে প্রভাব

এই সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। এশিয়ার অনেক দেশ, যারা পারস্য উপসাগরের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তারা সরাসরি সংকটে পড়েছে।

ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে পেট্রল স্টেশনগুলোতে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সপ্তাহে একদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, যাতে জ্বালানির ব্যবহার কমানো যায়। অনেক দেশ দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ বা পরামর্শ দিচ্ছে।

Thailand weighing overnight petrol station closures to save fuel: PM | The  Peninsula Qatar

যুদ্ধবিরতিতেও স্বস্তি নেই

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তেমন পরিবর্তন আসেনি। জাহাজ চলাচল এখনো ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় সরবরাহ সংকট অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পট বাজারের দামই প্রকৃত সংকটের চিত্র তুলে ধরছে। এটি দেখাচ্ছে, বাজার কতটা চাপের মধ্যে রয়েছে।

অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষকদের জন্যও এক ধরনের ধাঁধায় পরিণত হয়েছে। গত দুই দশকের মধ্যে এমন বড় ব্যবধান আগে দেখা যায়নি। ফলে ভবিষ্যতে তেলের বাজার কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূগোলের নিরাপত্তাবলয় ভেঙে পড়ছে, যুক্তরাষ্ট্র কি নতুন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত?

ইরান যুদ্ধের তেল ধাক্কা: দামে যা দেখা যাচ্ছে, বাস্তব সংকট তার চেয়েও ভয়াবহ

০৬:১৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা তৈরি করেছে। বাইরে থেকে তেলের দাম যতটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি সংকটপূর্ণ। বাজারের দুই ধরনের দামের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান এখন বিশ্লেষকদেরও ভাবিয়ে তুলেছে।

দাম এক, বাস্তবতা আরেক

সাধারণভাবে মানুষ যে তেলের দাম দেখে, তা মূলত ভবিষ্যৎ বাজারের হিসাব। এই দাম দেখলে মনে হতে পারে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। উদাহরণ হিসেবে, ইউরোপীয় বাজারে ব্রেন্ট তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলার, যা আগের বড় সংকটের সময়ের তুলনায় কম।

Thailand, Vietnam push remote work to save energy

কিন্তু বাস্তবে, যদি এখনই তেল কিনে সরাসরি সরবরাহ নিতে হয়, তাহলে খরচ অনেক বেশি। সরাসরি সরবরাহ বা স্পট বাজারে সেই দাম প্রায় ১৪৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বিশাল ব্যবধানই ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাজারের প্রকৃত চিত্র অনেক বেশি চাপের।

ফিউচার ও স্পট বাজারের বিভ্রান্তি

তেলের বাজারে সাধারণত দুই ধরনের দাম থাকে—একটি ভবিষ্যতের জন্য নির্ধারিত, আরেকটি তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য। এই দুই দামের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যৎ বাজার এখন বাস্তব পরিস্থিতিকে ঠিকভাবে প্রতিফলিত করছে না। ফলে বাজার বিশ্লেষণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরবরাহে বড় ধাক্কা

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ বা তার বেশি অংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে তেলবাহী জাহাজ চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ।

এই কারণে বিপুল পরিমাণ তেল পারস্য উপসাগরেই আটকে আছে। জাহাজ কোম্পানিগুলো এখনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না।

বিশ্বজুড়ে প্রভাব

এই সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। এশিয়ার অনেক দেশ, যারা পারস্য উপসাগরের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তারা সরাসরি সংকটে পড়েছে।

ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে পেট্রল স্টেশনগুলোতে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সপ্তাহে একদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, যাতে জ্বালানির ব্যবহার কমানো যায়। অনেক দেশ দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ বা পরামর্শ দিচ্ছে।

Thailand weighing overnight petrol station closures to save fuel: PM | The  Peninsula Qatar

যুদ্ধবিরতিতেও স্বস্তি নেই

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তেমন পরিবর্তন আসেনি। জাহাজ চলাচল এখনো ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় সরবরাহ সংকট অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পট বাজারের দামই প্রকৃত সংকটের চিত্র তুলে ধরছে। এটি দেখাচ্ছে, বাজার কতটা চাপের মধ্যে রয়েছে।

অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষকদের জন্যও এক ধরনের ধাঁধায় পরিণত হয়েছে। গত দুই দশকের মধ্যে এমন বড় ব্যবধান আগে দেখা যায়নি। ফলে ভবিষ্যতে তেলের বাজার কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।